সরকারি জমি দখল করে পৌরসভার অনুমোদন না নিয়েই আজম সরকার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নরসিংদীর মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, এ ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণের কোনো আইন মানা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পৌর কর্র্তৃপক্ষ।
স্থানীয়রা জানান, মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার মিলন খানের নিকট থেকে মামা শশুর আলম শেখের নামে বায়নাপত্র করে সাড়ে সাত শতাংশ জমির মালিকানা নিয়েছেন আজম সরকার। ওই জমিতে তিনি গত দুই মাস ধরে ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। এরই মধ্যে শেষ হয়েছে ভবনের বেইজমেন্টের কাজ।
কিন্তু পৌর এলাকায় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণের আইন অনুযায়ী ভবনের সামনে ৫ ফুট ও বাকি সব দিকে ৩ ফুট জায়গা খালি রাখার বিধান থাকলেও মানা হয়নি।
উল্টো সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে ভবনের সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
গত রবিবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়কে রাখা হয়েছে ভবনের নির্মাণসামগ্রী। এতে জনসাধারণের চলাচল বিঘিœত হচ্ছে।
ভবনে কাজ করা লাবলু মিয়া বলেন, ‘১০ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মালিক যেভাবে বলছেন সেভাবেই এর কাজ হচ্ছে। সামনে সড়কের ওপর যে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে তা সাময়িক ব্যবহারের জন্য।’ভবন নির্মাণের অনুমোদনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি অভিযুক্ত আজম সরকার। উল্টো তিনি বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ার কি ঘোড়ার ঘাস কাটে, বাধা দেয় না কেন?’
স্থানীয় কাউন্সিলর মাসুদ রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আজম সরকারের ভাব দেখে মনে হচ্ছে, তিনি মগের মুল্লুক পেয়েছেন। টাকার জোরে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না।’
মনোহরদী পৌর মেয়র আমিনুর রশিদ সুজন বলেন, ‘আইনের বাইরে যদি কেউ ভবন নির্মাণ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মনোহরদী পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুব আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুনেছি আজম সরকার নামে এক ব্যক্তি বাসস্ট্যান্ডে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছে। কিন্তু ভবন নির্মাণে পৌরসভায় নকশা অনুমোদনের আবেদন করেনি। কীভাবে করছে তা আমাদের জানা নেই। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’ এর আগেও আজমের বিরুদ্ধে ঐতিহ্যবাহী মনোহরদী পরিবহনের অফিস লুটপাট ও কাউন্টার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল।
