রাজধানীর গুলশানে এক শিল্পপতির বাসায় গৃহকর্মী সেজে চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে এক কিশোরী। তার নাম মেঘলা আক্তার (১৫)। চুরির নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগে কিশোরীর বাবা-মাকেও খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আমিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে গুলশানের ৩৫ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাসা থেকে চুরির অভিযোগে গৃহকর্মী মেঘলা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা, তিন পিস কাপড় ও তার নিজের ব্যবহৃত স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেছেন, ১২ জানুয়ারি থেকে নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের স্ত্রী সৈয়দা সুফিয়া খাতুনের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করে এই কিশোরী। বাসার গৃহকর্তা আগে থেকে কৌশলে মেয়েটির স্মার্টফোনে গোপন কল রেকর্ডার অ্যাপস চালু করে রাখেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন, এই কল রেকর্ড অ্যাপসের মাধ্যমে গৃহকর্তা জেনে ফেলেন গৃহকর্মী মেঘলা ও তার বাবা-মায়ের চুরির সব কৌশল। সরাসরি তাকে না ধরে মেয়েটির ওপর নজরদারি করতে বলেন বাড়ির অন্য গৃহকর্মীদের। এর একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ২৭ হাজার টাকা চুরি করে মেয়েটি তার ব্যাগে ভরার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে। পরে বনানী থানার ওসি(তদন্ত) বোরহান উদ্দীনকে খবর দিয়ে মেয়েটিকে পুলিশের হেফাজতে দিয়ে দেন।
বোরহান উদ্দীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মেয়েটিকে হাতেনাতে ধরার পরপরই আমাকে বাসায় ডেকে নিলে মেয়েটিকে গুলশান থানা পুলিশের এস আই আমিরুলের কাছে বুঝিয়ে দিই। এ সময় জব্দ করা অসংখ্য কল রেকর্ডে মেয়েকে দিয়ে বাবা-মায়ের চুরি করার নানা কৌশলের কথা জানা যায়। বাসায় চাকরি নেয়ার পর থেকেই কখনো ২ হাজার, কখনো ৬ হাজার টাকা পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে রেকর্ডে।
একটি রেকর্ডে বাবা তার মেয়েকে বলছেন, ‘মা আগে ছোট ছোট কাজ করো! পরে বড় কাজে হাত দিও।’
এস আই আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মেয়েটি চুরির কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ড হয়েছে। এখন মেয়েটির বাবা-মাকেও খোঁজা হচ্ছে।
