চিকিৎসক সেজে সাত বছর ধরে অভিনব প্রতারণা

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০৬:৫৬ পিএম

সাত বছর ধরে চিকিৎসক হিসেবে এক ব্যক্তি এক লাখ ১০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করে আসছেন ভুয়া পরিচয়ে। অথচ বিএমডিসির নিবন্ধন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সনদ এমনকি নামটিও ব্যবহার করছেন অন্য এক ব্যক্তির।

পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলায় ‘হেলথ কেয়ার’ ক্লিনিকে ডাক্তার সেজে এই প্রতারণার কাণ্ডে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মাধ্যমে সম্প্রতি এ জালিয়াতি ধরা পড়লে কর্মস্থল ছেড়ে উধাও হয়েছেন এই নকল ডাক্তার।

এ ঘটনায় শনিবার আইনি সহায়তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন, যার সনদ এবং পরিচয় ব্যবহার করে এই প্রতারণা করা হচ্ছিল সেই প্রকৃত চিকিৎসক। এদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে ভুয়া চিকিৎসকের আর কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, ঢাকার খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ডা. মাসুদ করিম ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ২৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি ২০০১ সাল এমবিবিএস পাশ করে কাজ করছেন ঢাকায় নিজস্ব চেম্বারে । তার নাম ও বিএমডিসি সনদ ব্যবহার করে গত সাত বছর ধরে পাবনার ভাঙ্গুরায় ‘হেলথ কেয়ার’ ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোলজিস্ট  ও আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন অন্য এক ব্যক্তি।

অভিনব জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর পাবনা শাখার আজীবন সদস্যও হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের কয়েকজন সহপাঠীর মাধ্যমে অভিনব এই জালিয়াতির কথা জানতে পারেন আসল ডা. মাসুদ করিম। পাবনায় এসে নিজের নাম ব্যবহার করা আরেকজনকে দেখে হতভম্ব হয় পড়েন তিনি।

পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আলাপকালে ডা. মাসুদ করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, চিকিৎসক বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরে পাবনায় ছুটে এসেছি। আমার নাম-পরিচয় ও নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একজন চিকিৎসক সেজে কাজ করছেন, বিষয়টি আমার জন্য খুবই অপমানজক। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় মৌখিকভাবে জানিয়েছি এবং পাবনা সিভিল সার্জনকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এদিকে ঘটনা জানাজানির পর কর্মস্থল থেকে লাপাত্তা নকল মাসুদ করিম। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার আসল নাম পরিচয় জানাতে পারেননি।     

বিএমএ পাবনা শাখার সাধারণ সম্পাদক আকসাদ আল মাসুদ বলেন, ভুয়া ডাক্তার কাগজপত্র জাল করল কীভাবে? নিশ্চয়ই কেউ তাকে সহযোগিতা করেছে। তাদের খুঁজে বের করা দরকার।

পাবনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রতারণার বিষয়ে ডা. মাসুদ করিমের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানম জানান, ঘটনা জানার পরপরই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। সত্যতা যাচাই করেছি। কাগজপত্র আনার কথা বলে পালিয়েছে কথিত ভুয়া ওই মাসুদ। প্রকৃত মাসুদ করিম আমার কাছে এসে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিএমডিসি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত