যশোর সদর উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান চারজন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন, সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান মিন্টু কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন চাইছেন। আর বিএনপি এ নির্বাচনে তেমন আগ্রহী নয়।
আগামী মার্চ মাসে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে উপজেলা নির্বাচন হবে। আর এদিকে লক্ষ রেখেই জনসংযোগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ আসনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবার সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদে নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে চান। এর জন্য প্রায় প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের পরপর দুইবারের চেয়ারম্যান শাহীন চাকলাদার জাতীয় নির্বাচনে সদর আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রার্থী করা হয় কাজী নাবিল আহমেদকে। শাহীন চাকলাদারের অবস্থানও বেশ শক্তিশালী। তৃতীয়বারের মতো ওই পদে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন শাহীন। বিগত দিনে সদর উপজেলায় রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ অবকাঠামো উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আবারও নিজের নাম রাখতে চান তিনি।
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। প্রায় ১৫ বছর ধরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি। গত দুটি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। এবার দল থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
যশোর জেলা পরিষদের সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মিন্টুও সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছেন। তিনিও নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভাব্য এই প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, তারা সবাই এবার উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, তার পক্ষে কাজ করার কথা জানান তারা।
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘আমরা মনে করি না এই সরকারের অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। তাদের অধীনে নির্বাচনে জনগণের মতামতের কোনো প্রতিফলন ঘটবে না। সে কারণে তৃণমূল পর্যায় থেকেই আমরা মনে করছি না তাদের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যৌক্তিকতা আছে।
