সৈয়দপুরে খামারবাড়িতে দম্পতির গলা কাটা লাশ

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০৪:৫৮ এএম

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় লিজ নেওয়া খামারবাড়িতে এক দম্পতিকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রবিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার ওই খামারবাড়ি থেকে গলা কাটা লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন খামারের নৈশপ্রহরী। তাকে শুরুতে সৈয়দপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত দুজন হলেনÑ শেখ নজরুল ইসলাম (৬৫) ও তার স্ত্রী সালমা বেগম (৪৮)। তাদের বাড়ি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার বেলাইচ-ী সোনাপুকুর গ্রামে। আহত আবদুর রাজ্জাক (৪০) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট গ্রামের  খয়রাত হোসেনের ছেলে।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাবেক কর্মচারী শেখ নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে তার দ্বিতীয় স্ত্রী সালমা বেগমকে নিয়ে সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া এলাকায় থাকেন। তিনি দুই বছর আগে খাতামধুপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের আসলাম চৌধুরীর কাছ থেকে দুই একর জমি লিজ নিয়ে গরু-ছাগল ও ভেড়ার খামার করেন। চার দিন আগে স্ত্রী সালমাকে নিয়ে খামারবাড়ি দেখতে যান নজরুল ইসলাম। সেই দিন থেকে খামারবাড়িতেই অবস্থান করছিলেন তারা। গতকাল সকালে খামারবাড়িতে স্বামী-স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ ও বাড়িটির নৈশপ্রহরী আবদুর রাজ্জাককে গুরুতর আহত দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

নিহত দম্পতির ছেলে শেখ স্বপন আহমেদ (২২) বলেন, ‘চার দিন আগে বাবা ও মা খামারবাড়িতে দেখাশোনার জন্য আসেন। সেই দিন থেকে এখানেই তারা অবস্থান করছিলেন। রবিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে আমার মায়ের মোবাইল থেকে এই গ্রামের একজন মানুষ ফোন করে জানায়, কে বা কারা তোমার বাবা-মাকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে আর তোমাদের খামারের নৈশপ্রহরী আবদুর রাজ্জাক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এমন ফোন পেয়ে আমি ও আমার বড় ভাই খামারবাড়িতে এসে দেখি, আমার বাবা-মায়ের লাশ পড়ে আছে। আর আমাদের খামারের নৈশপ্রহরী আবদুর রাজ্জাক রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর আগে খাতামধুপুর ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের আসলাম চৌধুরীর কাছ থেকে দুই একর জমি পাঁচ বছরের চুক্তিতে নিয়ে একটি খামার তৈরি করেন আমার বাবা শেখ নজরুল ইসলাম। কিছুদিন আগে আসলাম চৌধুরীর ছেলেরা তাদের জমি ফেরত নেওয়ার জন্য আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। আমরা রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত