মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কোকেন সম্রাটদের উপাখ্যান

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১১:৪৯ পিএম

প্রচন্ড শীতের রাত। একটি মেয়ে বিছানায় শুয়ে আছে। প্রচন্ড ঠান্ডায় ছটফট করছে মেয়েটি, ঘুম আসছে না। পাশের কক্ষেই ঘুমুচ্ছে তার বাবা। বাবাকে জাগিয়ে সে জানাল শীতের কারণে তার ঘুম না আসার কথা। দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন বাবা। এত রাতে ফায়ারপ্লেসের জন্য কাঠ পাবেন কোথায়! তবুও মেয়েকে আশ্বস্ত করলেন, কিছু একটা শিগগিরই তিনি করবেন। নিজের কক্ষে এসে আবারও কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়ল মেয়েটি। ক্ষণিক কাল পরই সে খেয়াল করল তার ঘরটি ক্রমশ আরামদায়ক উষ্ণ হয়ে উঠছে। অবাক মেয়েটি ভাবল, এত তাড়াতাড়ি কাঠ জোগাড় করে ফেলেছেন বাবা! কম্বলের ফাঁক গলিয়ে ফায়ারপ্লেসের দিকে তাকিয়ে বোকা বনে গেল সে, যখন দেখল কাঠের পরিবর্তে তার বাবা জলন্ত আগুনে একের পর এক ছুড়ে মারছেন মার্কিন একশত ডলারের বান্ডিল! এটা কোনো কেচ্ছা নয়, না কোনো সিনেমা। নিজের মেয়েকে উষ্ণ রাখতে এভাবেই লাখ লাখ ডলার পুড়িয়েছিলেন কলম্বিয়ার কিংবদন্তি ‘ড্রাগ লর্ড’ পাবলো এস্কোবার। কোকেন সম্রাট বাস্তব জীবন রুপালি পর্দায় এসেছে ‘নারকোস’ শিরোনামে। কুখ্যাত ড্রাগ কার্টেলগুলো নিয়ে নেটফ্লিক্স-এর এই আয়োজন এখন চতুর্থ সিজনে গড়িয়েছে। পরাগ মাঝির লেখায় আজ জানুন এই সিরিজের প্রথম সিজনের গল্প-

নারকোস (সিজন-ওয়ান)

নির্মাতা প্রতিষ্ঠান : নেটফ্লিক্স

মুক্তি : ২৮ আগস্ট ২০১৫

মোট এপিসোড : ১০টি

সিনেমাটিতে শুধু এস্কোবারের রোমাঞ্চকর জীবন নয়, বরং তাকে ধরার জন্য আমেরিকান ডিইএ এজেন্টদের রুদ্ধশ্বাস অভিযানকেও চিত্রায়ণ করা হয়েছে। পাবলো এস্কোবারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ব্রাজিলিয়ান অভিনেতা ওয়েঙ্গার মাওরা। এস্কোবার চরিত্রে অভিনয়ের কথা শুনে তিনি প্রথমে হেসেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন।

কারণ, তিনি স্প্যানিশ ভাষা জানতেন না। এই ছবির জন্য তাকে বাছাই করার অন্যতম কারণ ছিল এস্কোবারের সঙ্গে তার চেহারার অবিশ্বাস্য মিল। শেষ পর্যন্ত সিনেমাটি করার জন্য তিনি চার মাসের মধ্যেই স্প্যানিশ ভাষাটি শিখে ফেলেন, তাও আবার কলম্বিয়ান একসেন্টে। নারকোসে অনবদ্য অভিনয় তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি দিয়েছে সারা বিশ্বে।

নারকোসের প্রথম সিজনে সত্তর দশকের শেষ দিকে কোকেন ব্যবসায় এস্কোবারের হাতেখড়ি থেকে শুরু করে ১৯৯২ সালের জুলাই মাসে লা ক্যাথেড্রাল কারাগার থেকে তার পালিয়ে যাওয়া পর্যন্ত চিত্রায়ণ করা হয়েছে। আমেরিকান ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ) এজেন্ট স্টিভ মারফি যিনি কলম্বিয়ায় দায়িত্বরত ছিলেন তার বয়ানে এগিয়ে যায় নারকোস-এর কাহিনী। প্রথম সিজনটি ১০টি এপিসোডে বিভক্ত।

এস্কোবারের উত্থান

শুরুর এপিসোডগুলোতে দেখা যায়, কীভাবে এস্কোবার কলম্বিয়ার কোকেন ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যান। এস্কোবার ছিলেন ম্যাডেলিনের কালোবাজারি। গোপনে ট্রাকে করে গৃহস্থালির আসবাবপত্রের আড়ালে তিনি অ্যালকোহল, সিগারেট পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার সঙ্গে এ সময় পরিচয় হয় ‘নকরোচ’ বা ‘তেলাপোকা’ খ্যাত মরিনো’র সঙ্গে। মরিনো ছিলেন একজন চিলিয়ান এবং আন্ডারগ্রাউন্ড কেমিস্ট। কোকেন তৈরির মাধ্যমে বিপুল ব্যবসার প্রস্তাব তিনিই দিয়েছিলেন এস্কোবারকে। ব্যাপারটা ছিল এমন যে, কোকেন তৈরি করবেন মরিনো আর তা গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন এস্কোবার। তাদের ব্যবসা এতটাই সফল হয় যে, রাতারাতি কোকেন তৈরির ছোট ল্যাবটিকে বড় করতে হয়। কলম্বিয়ার ঘন গহিন জঙ্গলে গড়ে তোলা হয় এই ল্যাব। মাদক চোরাকারবারি কার্লোস ল্যাহডারের সহযোগিতায় মরিনোর তৈরি কোকেন এস্কোবার পৌঁছে দিতেন মিয়ামি পর্যন্ত। সেখানকার ধনী এবং বিখ্যাতদের মধ্যে এই ড্রাগ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। উপর্যুপরি চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেশ কয়েকবার বড় করতে হয় তাদের ল্যাবকে। ধীরে ধীরে বিপুল পরিমাণ কোকেন আমেরিকায় চালান হতে থাকে। আর এর সূত্র ধরে বাড়তে থাকে মাদক চোরাচালান সম্পর্কিত অপরাধ। যার বয়ানে কাহিনীটি এগিয়ে যাচ্ছিল সেই স্টিভ মারফিকে এ সময় কলম্বিয়ায় পাঠায় আমেরিকা। কোকেন চোরাকারবারিদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়াই তার উদ্দেশ্য। কলম্বিয়ান গোয়েন্দা জ্যাভিয়ার পেনার সঙ্গে তিনি যৌথভাবে কাজ শুরু করেন, যেন শিগগিরই আমেরিকায় কোকেন পাচার বন্ধ করা যায়।

বিপ্লবী এম-১৯

শুরুর দিকে ডিইএ এজেন্টদের চেয়েও একসময় কমিউনিস্টপন্থি এম-১৯ বিপ্লবী গেরিলারা হুমকি হয়ে দাঁড়ায় এস্কোবারের জন্য। তাই তাদের সঙ্গে এক কঠিন লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন এস্কোবার। হঠাৎ করেই এম-১৯-এর গেরিলারা যখন কুখ্যাত ওচোয়ার বোন মার্তাকে কিডন্যাপ করে। এটিকে সুযোগ হিসেবে নেন এস্কোবার। অন্য মাদক চোরাকারবারি গ্রুপগুলোকে একাত্ম করে নতুন একটি দল তৈরি করেন এস্কোবার। ওচোয়ার বোনকে উদ্ধার এবং এম-১৯’কে মোকাবিলা করাই এই দলের লক্ষ্য। দলটির নামকরণ হয় ‘কিডন্যাপারদের মৃত্যু’। তাদের সেøাগান হয়, ‘মার্তার মুক্তি এবং আর কোনো কিডন্যাপ নয়’। মূলত এখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ম্যাডেলিন কার্টেল’, যার অপ্রতিরোধ্য সম্রাট হয়ে ওঠেন এস্কোবার। কোকেন পাচার করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় শুরু করেন তিনি। এ সময়ই কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার খায়েশ জাগে এস্কোবারের। এমনকি তিনি সাংসদও নির্বাচিত হন। কিন্তু অপরাধীদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং মাদক চোরাচালান সম্পৃক্ত খবরাখবর ফাঁস হলে সংসদ সদস্য পদটি হারান তিনি। এতে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন এস্কোবার।

রদ্রিগো বনিলাকে খুন

এদিকে, মাদক চোরাকারবারিদের আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নতুন একটি আইন পাস হয় কলম্বিয়ায়। আইনটি বাতিল করার জন্য কলম্বিয়ান সরকারকে হুমকি দেন এস্কোবার। শুধু তাই নয় কলম্বিয়ার তৎকালীন আইনমন্ত্রী রদ্রিগো লারা বনিলা’কে তার নিজ গাড়ির ভেতর গুলি করে হত্যা করা হয়। কিন্তু কাছাকাছি সময়ে এস্কোবারের হিসাবরক্ষক ‘ব্ল্যাকবেয়ার্ড’কে আটক করতে সক্ষম হন ডিইএ এজেন্ট মারফি এবং পেনা। তার কাছ থেকে এস্কোবারের গোপন অনেক অপরাধের তথ্য পেয়ে যান তারা। আর এসব তথ্য জমা করা হয় কলম্বিয়ার ‘প্যালেস অব জাস্টিস’-এ। সুরক্ষিত এই ভবন পুড়িয়ে দিয়ে অপরাধের প্রমাণাদি নষ্ট করার জন্য এস্কোবার শেষ পর্যন্ত তার পুরনো শত্রু এম-১৯’কেই ভাড়া করেন। যদিও গোয়েন্দারা সেখান থেকেও প্রমাণাদি সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হন।

টার্গেটে প্রেসিডেন্ট

নারকোস-এর ৬ষ্ঠ এপিসোডে এস্কোবারের টার্গেটে পরিণত হন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সিজার গ্যাভিরিয়া। কারণ কলম্বিয়ার মাদক ব্যবসায়ীদের আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে ছিলেন এই গ্যাভিরিয়া। পরিকল্পনা করা হয় গ্যাভিরিয়াকে কলম্বিয়ার অভ্যন্তরীণ বিমান ‘অ্যাভিয়াঙ্কা ফ্লাইট-২০৩’-সহ উড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এস্কোবারের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনে যায় ডিইএ গোয়েন্দারা। তারা গ্যাভিরিয়াকে সতর্ক করে দেয়। প্রাণ বেঁচে যায় গ্যাভিরিয়ার। কিন্তু এস্কোবারের নির্দেশে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও সন্ত্রাসী গ্রুপ ইটিএ’র সদস্যরা পরিকল্পনা মতো ‘অ্যাভিয়াঙ্কা ফ্লাইট-২০৩’ উড়িয়ে দেয়। বিমানটিতে থাকা ১০৭ আরোহীর সবাই প্রাণ হারায়। ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে কলম্বিয়ার জনগণ। বিশেষ করে পরিকল্পিত বোমা বিস্ফোরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে তারা। ডিইএ এজেন্টরা এ সময় এস্কোবারের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী জোস গঞ্জালো রদ্রিগেজ গাচা’র হদিস পেয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় ডিইএ সদস্যদের গুলিতে ছেলে ফ্রেডিসহ প্রাণ হারান গাচা।

সাংবাদিক ডায়ানা অপহরণ

এস্কোবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা একে একে তার কাছ থেকে সরে যেতে থাকে। তাদের প্রতিঘাত করার উপায় খুঁজছিলেন এস্কোবার। আর এরই অংশ হিসেবে সাংবাদিক ডায়ানা টার্বেকে অপহরণ করেন তিনি। এই ডায়ানা ছিলেন কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জুলিও সিজার টার্বের কন্যা। এস্কোবার ডায়ানাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সমঝোতার পরিকল্পনা করছিলেন, যেন ধরা পড়লে তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া না হয়। ততদিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সেই সিজার গ্যাভিরিয়া, যাকে একটি অভ্যন্তরীণ বিমানে বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এস্কেবার। তার সঙ্গে বোঝাপড়া করার জন্য ডায়ানা ছিলেন উৎকৃষ্ট মাধ্যম। কারণ একজন প্রেসিডেন্ট অবশ্যই একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট কন্যার মূল্য বুঝবেন। এস্কোবার চাইছিলেন যেন কলম্বিয়ার সরকার এবং তার ম্যাডেলিন কার্টেলের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি করা হয়। কয়েক মাসের দর কষাকষির পর সরকারি বাহিনী এস্কোবারকে ধরে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় এবং অভিযান চালায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সরকারি বাহিনীর অভিযানে ভুলবশত প্রাণ হারান সাংবাদিক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট কন্যা ডায়ানা টার্বে।

হার মানে সরকার

ডায়ানার মৃত্যুর পর শোক ছড়িয়ে পড়ে কলম্বিয়ায়। সমালোচনার মুখে পড়েন প্রেসিডেন্ট গ্যাভিরিয়াও। এমন অবস্থায় এস্কোবারের প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন গ্যাভিরিয়া। প্রস্তাব অনুযায়ী, এস্কোবার আত্মসমর্পণ করবেন এই শর্তে যে, তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে না। আর তিনি বন্দি থাকবেন নিজেরই কারাগারে এবং তাকে পাহারা দেবে তার নিজেরই লোকজন। এস্কোবারের সেই বিখ্যাত কারাগারের নাম ‘লা ক্যাথেড্রাল’। এটিকে কারাগার নয়, বলতে হবে রাজপ্রাসাদ। সুবিশাল এলাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাসাদে আরাম আয়েশের এমন কোনো আয়োজন নেই যে ছিল না।

কারাগারে এস্কোবার

এতকিছুর পরও এস্কোবারের ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে যায় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা। তার চাচাতো ভাই এবং ডান হাত হিসেবে পরিচিত গুস্তাভো সরকারি বাহিনী ‘সার্চ ব্লক’-এর অভিযানে নিহত হন। মৃত্যুর সময় গুস্তাভোর সঙ্গে ছিল ব্যারনস নামে উচ্চ মাত্রার মাদক। এ সময় আবার এস্কোবারের ড্রাগ কার্টেল ম্যাডেলিন কার্টেলের প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি কার্টেল দাঁড়িয়ে যায়। ‘ক্যালি কার্টেল’ নামে প্রতিদ্বন্দ্বী ওই কার্টেলটি গড়ে তুলেছিলেন এস্কোবারেরই একসময়ের সহযোগীরা। তবে, লা ক্যাথেড্রালে নিরাপদেই বাস করছিলেন এস্কোবার। সরকারি বাহিনী কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী কারোরই উৎপাত ছিল না সেখানে। এই লা ক্যাথেড্রালকে নিজের মতো করে নিয়েছিলেন এস্কোবার। সেখানে যে কাউকেই তিনি আমন্ত্রণ জানাতে পারতেন। আইনজীবী, পতিতা থেকে শুরু করে তার পরিবারের সদস্যরাও এখানে নিত্য যাতায়াত করতেন।

হাল ছাড়েনি ডিইএ

দীর্ঘদিন ধরে এস্কোবারের পেছনে লেগে থাকা ডিইএ গোয়েন্দারাও হাল ছাড়ার পাত্র নন। তারা পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন কারা লা ক্যাথেড্রালে যায় এবং বেরিয়ে আসেন। তারা দেখতে পান পাবলো এস্কোবারের সবচেয়ে কাছের সহযোগী হিসেবে খ্যাত জেরার্ডো মানকাডা এবং ফার্নান্দো গ্যালিনো ওই কারাগারে প্রবেশ করলেও তাদের কোনোদিন বের হতে দেখা যায়নি। এ অবস্থায় গুজব ছড়াতে শুরু করে যে, এস্কোবার তাদের কারাগারের ভেতরেই হত্যা করেছেন। কলম্বিয়ান সরকার এ অবস্থায় এস্কোবারকে রাজি করানোর চেষ্টা করে যেন লা ক্যাথেড্রাল ছেড়ে বগোটার একটি জেলে তিনি কিছুদিনের জন্য অবস্থান করেন। পরবর্তী সময়ে তাকে আবারও লা ক্যাথেড্রালে ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারের এমন প্রস্তাবে সাড়া দেননি এস্কোবার। কারণ, তিনি জানতেন যে, একবার সরকারের ফাঁদে পা দিলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে তাকে এবং নিশ্চিতভাবেই তাকে তুলে দেওয়া হবে আমেরিকার হাতে।

যা হলো কারাগারে

এস্কোবার প্রস্তাবে সাড়া না দিলেও লা ক্যাথেড্রাল কারাগার ঘেরাও করে সেনাবাহিনী। কলম্বিয়ার তৎকালীন আইন উপমন্ত্রী এডুয়ারো স্যানডোভাল কারাগারে ঢুকে জোর জবরদস্তি কিংবা বুদ্ধি খাটিয়ে এস্কোবারকে বের করে আনার সিদ্ধান্ত নেন। স্যানডোভাল ভেবেছিলেন তিনি হয়তো এস্কোবারকে কারাগার থেকে বের করে আনতে পারবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার বোধোদয় হয় যখন দেখেন, লা ক্যাথেড্রালে তাকেই জিম্মি করে ফেলেছেন এস্কোবার। কারাগারের ভেতর আটক স্যানডোভালকে সরকারের সঙ্গে এস্কোবারের পক্ষ থেকে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এস্কোবারের একের পর এক উৎপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গ্যাভিরিয়া শেষ পর্যন্ত একটি বিশেষ বাহিনীকে তলব করেন, যেন তারা কারাগারের ভেতর প্রবেশ করে এস্কোবার আর তার সহযোগীদের হত্যা করে। প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ওই বিশেষ বাহিনী লা ক্যাথেড্রালে প্রবেশ করে এবং স্যানডোভালকে উদ্ধার করে। তবে, তাদের প্রধান টার্গেট পাবলো এস্কোবার তার কাছের কয়েকজন সহযোগী নিয়ে কারাগার থেকে হাওয়া!

 নারকোস-এর বাকি সিজনসগুলো নিয়ে আগামীকাল পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত