নতুন বছরে পুঁজিবাজারে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪১ পিএম

নতুন বছরের শুরু থেকেই দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১৭৬ কোটি টাকার নিট বিনিয়োগ করেছেন তারা। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার শঙ্কায় গত বছর প্রায় ৪৯৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেন বিদেশিরা। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন তারা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১০ সালের পর দেশের পুঁজিবাজারে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম হলেও বিদেশিরা বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছেন। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০১৮ সালে পুঁজিবাজার সংশোধন হওয়ায় অধিকাংশ শেয়ারদর বিনিয়োগ অনুকূলে ছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিদেশিরা সে সুযোগে শেয়ার কেনার পরিমাণ বাড়িয়েছেন।

ডিএসই সূত্র জানায়, জানুয়ারিতে বিদেশিরা মোট ৮১৪ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা করেছেন। এর মধ্যে শেয়ার কিনেছেন ৪৯৫ কোটি টাকার। বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৩১৯ কোটি টাকার শেয়ার। এ হিসেবে জানুয়ারিতে নিট বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে ১৭৬ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে বিদেশিরা নিট ৫৯৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নেন। আগের বছর ২০১৭ সালে বিদেশিরা এক হাজার ৭০৫ কোটি টাকা নিট বিনিয়োগ করেন।

জানা গেছে, দেশের শেয়ারবাজারে যেসব বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে তাদের সিংহভাগই যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর বিনিয়োগ কোম্পানি।

এ ছাড়া সিঙ্গাপুর, দুবাইভিত্তিক কিছু বিনিয়োগ কোম্পানিরও বিনিয়োগ রয়েছে। নর্ডিক দেশগুলোর ব্যবসায়ীদের সমন্বিত বিনিয়োগ কোম্পানি ব্রাদার্স অ্যান্ড পার্টনার্স দেশের শেয়ারবাজারে প্রায় হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।

জানুয়ারিতে যেসব শেয়ারে বিদেশিদের বিনিয়োগ আগ্রহ ছিল, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, আইপিডিসি, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রামীণফোন, সিঙ্গার, অলিম্পিক, পাওয়ার গ্রীড, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, সিটি, ইবিএল, ইসলামী ব্যাংক, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, রেনাটা, সামিট পাওয়ার, ডরিন পাওয়ার ও ঢাকা ব্যাংকে। এর মধ্যে বিদেশিরা সবচেয়ে বেশি লেনদেন করেছে স্কয়ার ফর্মাসিউটিক্যালস ও ব্র্যাক ব্যংকের শেয়ারে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১০ সালের বাজার ধসের পরের বছর থেকে বিদেশি বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য অংশ এসেছে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নিট বিনিয়োগে ইতিবাচক ধারা ছিল। এ সময় টানা সাত বছরে বিদেশিরা আট হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা নিট বিনিয়োগ করেছেন। টানা বিনিয়োগের পর ২০১৮ সালে বিনিয়োগ কিছুটা প্রত্যাহার করে নেন তারা।

২০১৮ সালে বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহারের সঙ্গে নির্বাচনের সংযোগ ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় হারের ঝুঁকির বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলো ছাড়াও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অধিকাংশই স্থানীয় মুদ্রার মান কমিয়েছে বা অবমূল্যায়ন করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো বিদেশি মুদ্রার বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে।

গত সাত বছরে ভারত ও পাকিস্তান তাদের নিজস্ব মুদ্রার ৫০ শতাংশের বেশি অবমূল্যায়ন করেছে। বিদেশি পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, টাকার অবমূল্যায়ন হলে বিদেশিরা আরও বেশি বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত