সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফেইসবুকে তর্কের জের পরীক্ষার হলে প্রতিশোধ ইউএনওর!

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৩৯ এএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের স্ট্যাটাসে তর্কের কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতিশোধ নিয়েছেন এসএসসি পরীক্ষার হলে। এতে ওই পরীক্ষার্থী চলতি এসএসসির বাদবাকি পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘটনাটি ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার। গতকাল রবিবার এ ব্যাপারে ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই পরীক্ষার্থী ও তার পরিবার।

দুপুরে ভোলা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার্থী রুবাইয়াত ওয়াদুদ গল্প বোরহানউদ্দিনের ইউএনও আবদুল কুদ্দুসের বিচার দাবি করে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন গল্পের বাবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ ফরিদ এবং গৃহিণী মা হুমায়রা শুরভী।

অভিযোগকারী পরীক্ষার্থী গল্প বোরহানউদ্দিনের কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ  করছিল। বিদ্যালয়ে তার রোল নং ছিল এক। পরীক্ষার আসন পড়েছিল উপজেলার আবদুল জব্বার কলেজ কেন্দ্রে।

সংবাদ সম্মেলনে গল্প বলেন, মাসকয়েক আগে ফেইসবুকে তর্কাতর্কিকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গতকাল (শনিবার) এসএসসি পরীক্ষার্থীর এমসিকিউর উত্তরপত্র টেনে নিয়ে আমাকে ১৫ মিনিট বসিয়ে রাখা হয়। ১৫ মিনিট পরে উত্তরপত্র ফেরত দিলেও মানসিক চাপে আমি আর কিছুই লিখতে পারিনি। ইউএনও আরও ক্ষতি করতে পারেন আতঙ্কে আমি এবার আর বাকি পরীক্ষা দেবো না।

গল্পের অভিযোগমতে, কয়েক মাস আগে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সাহিত্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিচারকার্যে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে গল্প তার ফেইসবুক পেইজে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বোরহানউদ্দিন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে গল্পের কমেন্টে বাগ্বিত-া চলে। এর এক পর্যায়ে নির্বাহী কর্মকর্তা গল্পকে দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। এরপর গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গল্পের পরীক্ষার কক্ষে গিয়ে এমসিকিউ উত্তরপত্র টেনে নিয়ে ১৫ মিনিট বসিয়ে রাখার নিদের্শ দেন কক্ষ পরিদর্শককে। কক্ষ পরিদর্শক ১৫ মিনিট পর তাকে উত্তরপত্র ফেরত দিলেও ভয়ে ও মানসিক চাপে সে কিছুই লিখতে পারেনি। গল্পের আশঙ্কা পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার ক্ষতি করতে পারেন।

এ ঘটনায় রুবাইয়াতের বাবা-মাসহ স্বজনরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিচার দাবি করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুসকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, পরীক্ষার হলে কথা বললে খাতা আটকে রাখা যায়।

এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক মাসুদ আলম সিদ্দিক জানান, তিনি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত