শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চিকিৎসকের আত্মহত্যা স্ত্রী মিতু তিন দিনের রিমান্ডে

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:০৯ এএম

চট্টগ্রামের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার তার স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে পেয়েছে পুলিশ। গতকাল সোমবার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের হেফাজত চাওয়া হলেও শুনানি শেষে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম আল ইমরান খান তিন দিনের হেফাজতে নেওয়ার আদেশ দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহবুদ্দিন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় হাইকোর্টের নির্দেশনা মানার পাশাপাশি নারী কনস্টেবলের উপস্থিতি রাখতে আদালত আদেশ দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে নগরের চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরায় বিষ প্রয়োগ করে আত্মহত্যা করেন। ওইদিন রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরের নন্দনকানন এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তানজিলাকে আটক করে।

পরদিন ১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নগরীর চান্দগাঁও থানায় মোস্তফার মা জোবেদা খানম বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় তানজিলা, তার বাবা ইঞ্জিনিয়ার আনিসুল হক চৌধুরী, মা শামীম শেলী, ছোট বোন সানজিলা হক চৌধুরী আলিশা এবং দুই বন্ধু যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা উত্তম প্যাটেল ও ডা. মাহবুবুল আলমকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা মানসিক যন্ত্রণা ও উত্তেজনা সৃষ্টি করায় আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মৃত্যুর মুখে পড়েন মোস্তফা মোরশেদ। ২০০৯ সালে তানজিলার সঙ্গে মোস্তফার প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০১৬ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকেন তানজিলা। কিন্তু বিয়ের আগে ও পরে অন্য পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। মোস্তফা বিষয়টি জানার পর তার শ্বশুর-শাশুড়িকে জানান। কিন্তু তারা মেয়েকে শোধরানোর উদ্যোগ না নিয়ে উল্টো তাকে শাসাতে থাকেন। তানজিলার বোন সানজিলা যুক্তরাষ্ট্র থেকে নানাভাবে মোস্তফাকে হুমকি দিয়ে মানসিক যন্ত্রণা দিতে থাকেন।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসক দম্পতির মধ্যে কথাকাটাকাটির পর ভোররাত ৪টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান তানজিলা। পরে স্ত্রীর সমালোচনা করে স্বামী মোস্তফা মোরশেদ ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আমাদের দেশে তো ভালোবাসায় চিটিংয়ের শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম, আর আমি চিরশান্তির পথ বেছে নিলাম।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত