জনবল সংকট ও যন্ত্রপাতির অভাবে ভবন নির্মাণের প্রায় পাঁচ বছরেও চালু হয়নি ময়মনসিংহ জেলার উপজেলা পর্যায়ে নির্মিত গৌরীপুরের একমাত্র আধুনিক মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। অপরদিকে অচল হাসপাতালেই জানুয়ারি মাসে ১৭জন প্রসূতি মায়ের নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নিচতলায় রোগীদের পরিচর্যা, নিয়মিত সেবা কার্যক্রম, ২য় ও ৩য় তলায় অবস্থিত অপারেশন থিয়েটার, আল্ট্রাসনো, ডিউটি ডক্টরস রুম, স্টোররুম, ওয়ার্ড, ডেলিভারি রুমে তালা ঝুলছে। নিচতলায় পৌর শহরের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কার্যক্রম চলছে। দায়িত্বে রয়েছেন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা আঞ্জুমানারা বেগম। তিনি জানান, হাসপাতালের কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে জানুয়ারি মাসে নরমাল ১৭ জন প্রসূতি মায়ের বাচ্চা জন্মদান করানো হয়েছে। ডিসেম্বর মাসেও ১৫ জন প্রসূতির বাচ্চা হয়েছে। হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন প্রেষণে সিনিয়র স্টাফ নার্স আকলিমা খাতুন, চুক্তিভিত্তিতে নিয়োগে সহকারী নার্সিং অ্যান্টেনডেন্ট জারভীন আক্তার, অফিস সহায়ক আমান উল্লাহ আর পরিচ্ছন্নতাকর্মী শিল্পী আক্তার। হাসপাতালে নেই গাইনি ডাক্তার, অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার। সরকারিভাবে পাঁচ বছরেও চালু করার নেই কোনো উদ্যোগ। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল ভবন ও এক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় আবাসিক ভবন। আধুনিক মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হলে সেখানে একজন এমও (মেডিকেল অফিসার), দুজন এফডব্লিউডিসহ নানা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষণিক থাকবেন। তবে এখন প্রতিদিনই রোগীরা চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হয়ে বাড়ি ফিরছেন। উপজেলা মা ও শিশু স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ অফিসার ডা. ফেরদৌস আরা আক্তার জানান, ভবনটি সচল রাখার জন্য পৌরসভার নিয়োজিত এফডব্লিউভিকে দিয়ে সেখানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বহিঃকার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
