রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছি ক্রীড়াঙ্গনে

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০১:১৬ এএম

একসঙ্গে অনেক ক্লাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তিনি। এ সময়ে তরুণ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বেশ সুনামও কুড়িয়েছেন। রাজনীতিবিদ পরিচয় ছাপিয়ে এ কে এম মোমিনুল হক সাঈদ নিজেকে মাঠের মানুষ, ক্রীড়া সংগঠক পরিচয়টা দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সম্প্রতি দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোকে নিয়ে গড়া ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির সহসভাপতিও তিনি। ইচ্ছে আছে ফেডারেশনের আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার। এসব সাংগঠনিক ভাবনা আর ফুটবল নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা দেশ রূপান্তরের সুদীপ্ত আনন্দ’র কাছে বলেছেন তিনি

ঢাকার একটি ওয়ার্ডের কমিশনার হিসেবে মানুষ আপনাকে শুরুতে চিনেছে। কিন্তু এখন তো দেখা যাচ্ছে সেই পরিচয় ছাপিয়ে আপনার ক্রীড়া সংগঠক পরিচয়টা বড় হয়ে উঠছে। খেলাধুলার সঙ্গে এই সখ্যটা কীভাবে হলো?

 

সাঈদ : আমার জন্ম, বেড়ে ওঠা একটি ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশে। মতিঝিলের এই অঞ্চলটায় তখন অনেক মাঠ ছিল। ক্লাবগুলোও সব এই অঞ্চলকেন্দ্রিক। স্কুল পালিয়ে খেলা দেখতে গিয়ে কত মার খেয়েছি। ছাত্রজীবনেই ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছিলাম। এরপর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হলেও এই ক্লাবগুলোর প্রতি ভালোবাসা একটুও কমেনি। বরং এলাকার ছেলে হিসেবে কিছু দায়বদ্ধতা থেকেই বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে অনেক আগে থেকেই সম্পৃক্ত। খুব ভালোভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন ক্লাব যখন সফলতা পেতে শুরু করে তখনই আসলে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে আমার পরিচয় রটে যায়। আরামবাগ এবং দিলকুশা ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এছাড়া আরামবাগ ফুটবল একাডেমির প্রধান উপদেষ্টা, মেরিনার ইয়াংস ক্লাবের হকি, টেবিল টেনিস, হ্যান্ডবল, ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান, ফকিরেরপুল ক্লাবের উপদেষ্টা, লালবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছি। বলা যায় আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে এসেছি ক্রীড়াঙ্গনে। 

হকি ফেডারেশনের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এক বছর ধরে। সম্প্রতি সাধারণ সম্পাদক পদে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। হঠাৎ এত বড় দায়িত্ব কেন এত অল্প সময়েই নিতে চাচ্ছেন?

সাঈদ : ২০১৮ সালের ১২ জানুয়ারি অ্যাডহক কমিটির সহসভাপতি পদে যখন দায়িত্ব পেলাম তখন থেকেই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছি খেলাটাকে এগিয়ে নেওয়ার। বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছি ঘরোয়া হকি নিয়মিত করতে। এছাড়া জাতীয় দলকেও নানাভাবে পৃষ্ঠপোষণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তবে এতদিনে যা বুঝলাম তা হলো, এই ফেডারেশনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছে সঠিক কোনো পরিকল্পনা কোনো ভিশন ছাড়াই। অথচ বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। পাঁচ-সাত বছরের একটি পরিকল্পনা করে এগোনো গেলে ক্রিকেটের পর হকি বিশ্বকাপে খেলা খুবই সম্ভব। এই পদে আবারও নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাদেক ভাইও (আবদুস সাদেক)। একজন সৎ ও পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে তার তুলনা নেই। তবে বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ফেডারেশনকে তেমনভাবে সময় দিতে পারেন না। তাই বেশকটি ক্লাব এবং বর্ষীয়ান কর্মকর্তার অনুরোধে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি।

সম্প্রতি দেশের ক্লাবগুলোকে নিয়ে গঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন। যার সাধারণ সম্পাদক আপনি। এই সংগঠন নিয়ে কী কী পরিকল্পনা আছে?

সাঈদ : ক্লাবগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানারকম সমস্যা মোকাবিলা করে ফুটবলকে সার্ভ করে যাচ্ছে। জেলা, বিভাগ, জাতীয় দল ফুটবলের প্রতিটি স্তরের জন্য বহুমুখী সহায়তা মেলে ফিফা, এএফসি, মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে। কিন্তু ক্লাবগুলোর জন্য কেউ নেই। বাফুফে অংশগ্রহণবাবদ যে টাকা দেয় তা দিয়ে কিছুই হয় না। এতদিন ক্লাবগুলোর হয়ে বলারও কেউ ছিল না। এই সংগঠন ক্লাবগুলোর অধিকার নিয়ে কাজ করবে।

প্রতিষ্ঠার ৬০ বছরের মাথায় এসে আপনার অধীনে আরামবাগ ঘরোয়া ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি শিরোপা জিতেছে। এই ক্লাবটি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

সাঈদ : এই ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব নেই ২০১৫ সালে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চিন্তা ছিল ফুটবলে ভালো কিছু করার। তাই তো দুই বছর আগে দলের দায়িত্বে নিয়ে আসি দেশের সেরা কোচকে (মারুফুল হক)। আমি কোচের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সেটা আমি দিয়েছি বলেই সিনিয়র দল ভালো করছে। নিচের ধাপেও আমাদের কয়েকটি দল আছে, আরামবাগ ফুটবল একাডেমির কর্মকান্ড সচল করে আমরা কিন্তু একটা পাইপলাইনও তৈরি করে ফেলেছি। যার সুফল আমরা পাচ্ছি মূল দলে। এখন আমার স্বপ্ন এই ক্লাবের জন্য পূর্ণাঙ্গ একটি একাডেমি কমপ্লেক্স করা। নিজস্ব একটি মাঠ করা। তাছাড়া এই ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি। আমি দায়িত্ব নিয়েই মহান এই ব্যক্তির নামে ক্লাবের নামকরণ করার উদ্যোগ নেই। এখন বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অনুমতির অপেক্ষায় আছি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত