শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র: চল্লিশ বছর পূর্তি উৎসব

আমাদের একটি বড় ও গৌরবময় জাতি চাই: আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:২৭ পিএম

বাংলাদেশকে আলোকিত হতেই হবে উল্লেখ করে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছেন, আমাদের একটি বড় ও গৌরবময় জাতি চাই। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি চাই। সে লক্ষ্য নিয়েই বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র কাজ করে যাচ্ছে।’

বর্ণাঢ্য ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ৪০ বছর পূর্তি উৎসবে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এ কথা বলেন। এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে থেকে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদের নেতৃত্বে এক বৈচিত্র্যপূর্ণ র‌্যালি সবার মনোযোগ কাড়ে। কার্নিভ্যাল ঢঙে বর্ণিল, মনোজ্ঞ ও সুসজ্জিত র‌্যালিটি ১৮টি ভাগে সাজানো হয়। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, চিত্র শিল্পী মোস্তফা মনোয়ার, ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সংগীত ব্যক্তিত্ব মোস্তাফা জামান আব্বাসী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, লেখক ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, নাট্য অভিনেতা খায়রুল আলম সবুজ, টিভি ব্যক্তিত্ব আবদুন নুর তুষার, নাগরিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা হক প্রমুখ। উৎসব আয়োজনে বক্তারা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সফলতা কামনা করে শুভেচ্ছা জানান।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ বক্তব্যে বলেন, ‘একটি কুঁড়িকে দেখে যেমন পুরো প্রস্ফুটিত ফুল ভাবা খুবই কঠিন, তেমনি ৪০ বছর আগে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের শুরুটা হয়েছিল কুঁড়ি দিয়ে। কিন্তু এই ভাবে যে এটি প্রস্ফুটিত ফুল হবে এটি ভাবিনি। আমি বিশ্বাস করি বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র একদিন আরও বড় হবে।’

সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আলোকিত মানুষ গড়ার যে উদ্যোগ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিয়েছিলেন তা দেশ গড়ার প্রত্যয়ে অত্যন্ত দূরদর্শী একটি ভূমিকা ছিল। আজকে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।’

শিক্ষাবিদ ও লেখক ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার কোন তুলনা হয় না। সারা বিশ্বে এখনকার একটি সমস্যা হলো অনেকেই এখন বই পড়তে চায় না। বই পড়ানোর এই কাজটি আমাদের দেশে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র এককভাবে করে যাচ্ছে।’ 

চল্লিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলামোটরে কেন্দ্রের ভবনকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। দেয়াল পেইন্টিং, ক্যানভাস, আলপনায় বর্ণিল করে তোলা হয় পুরো ভবনকে। উৎসব আয়োজনে ৩০ হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে কণ্ঠশিল্পী কিরণ চন্দ্র রায়, প্রিয়াঙ্কা গোপ, চন্দনা মজুমদারসহ প্রায় অর্ধশত শিল্পী মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন। গানের ফাঁকে চলে গৌড়ীয়, মণিপুরী, কথকসহ বিভিন্ন ধরনের নাচ ও আলোচনা। দিনভর শুভেচ্ছা জানাতে আসেন বিশিষ্টজনেরা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত