শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বাণিজ্যমেলা শেষ হচ্ছে আজ

মূল্যছাড়ের ছড়াছড়ি ছুটিতে দর্শনার্থীর ঢল

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:৫৭ এএম

আজ শনিবার পর্দা নামছে মাসব্যাপী আয়োজিত ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার’। মেলার শেষ মুহূর্তে এসে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়নে পণ্যভেদে দেওয়া হচ্ছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড়। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় ছিল উপচেপড়া ভিড়। শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেন সবাই। মেলা শেষ হওয়ার আগের দিনে পোশাক, কসমেটিকস ও ক্রোকারিজ পণ্যসহ সব দোকানেই ক্রেতাদের বাড়তি চাপ সামলাতে বিক্রেতাদের হিমশিম খেতে হয়। এদিন মেলায় লোকসমাগম ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে অনেক বেশি। সকাল থেকেই বঙ্গবন্ধু

আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনের সড়ক থেকে শুরু হওয়া জনস্রোত গিয়ে মিলতে থাকতে মেলার প্রধান ফটকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় যেন তিলধারণের জায়গা ছিল না।

বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা যায় শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চলছে মূল্য ছাড়ের প্রতিযোগিতা। মেলার শুরুর দিকে অধিকাংশ দোকানে পণ্যভেদে ১০-২০ শতাংশ মূল্য ছাড় দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ক্ষেত্রবিশেষে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে। আর এতে খুশি ক্রেতারাও। আরএফএল ইটালিনোর বিক্রয় নির্বাহী ইমন দেশ রূপান্তরকে জানান, এক সপ্তাহ ধরে তাদের ক্রোকারিজ পণ্যে ৪০ শতাংশ মূল্য ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আগে যা ছিল ২০-২৫ শতাংশ।

মেলায় আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নূর আলম বলেন, ‘মেলার পরিবেশ ভালো, তবে প্রচন্ড চাপ তাই একটু অসহ্য লাগছে।’ শেষ বেলা এসে বিভিন্ন পণ্যে মূল্য ছাড় পেয়ে বেশ খুশি এই ক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো অনেক মধ্যবিত্তই বাণিজ্যমেলা থেকে শেষ মুহূর্তের ছাড়ের সুযোগে পছন্দের পণ্য কেনার জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকে।’

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মনির হোসেন পরিবারের সব সদস্য নিয়ে এসেছিলেন মেলায়। বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে যে দোকানে মূল্য ছাড়ের পরিমাণ বেশি সেখান থেকে পছন্দের পণ্যগুলো কিনছিলেন তারা।

জুতার দোকান রেভেঞ্চের বিক্রয়কর্মী সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দোকানে সব ধরনের পণ্যে চলছে ৫০ শতাংশ মূল্য ছাড়। বিক্রির যে আশা নিয়ে মেলায় প্যাভিলিয়ন দিয়েছি তা পূরণ হয়েছে।’

তবে ভিন্ন মত জানালেন পাটপণ্যের একটি স্টলের বিক্রেতা রাকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মেলায় ক্রেতার চেয়ে দর্শনার্থী বেশি, বিকেলের পর ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’

অন্যান্য দিনের মতো এদিনও মেলার মাঠের ভেতর ও বাইরে দুই জায়গায়ই ছিল ভ্রাম্যমাণ হকারদের উপদ্রব। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় অনেক দর্শনার্থীকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আয়োজিত ২৪তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা গত ৯ জানুয়ারি উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এবারের মেলায় প্যাভিলিয়ন, মিনি-প্যাভিলিয়ন, রেস্তোরাঁ ও স্টলের মোট সংখ্যা ছিল ৬০৫টি। বাংলাদেশ ছাড়াও ২৫টি দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। দেশগুলো হলো থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত