রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মেয়েদের চোখে বড় স্বপ্ন

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

সর্বশেষ আসরে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ছোঁয়া হয়নি। তিন বছর আগে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে দক্ষিণ এশিয়ার সেরার খেতাবটা জেতা হয়নি। তাই তো এবার বড় স্বপ্ন ধারণ করে নিজেদের প্রস্তুত করছেন বাংলাদেশের মেয়েরা। সামনের মাসে সাফ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের পঞ্চম আসরটি বসবে নেপালে। এবার আর নিরাশ হয়ে ফিরতে চান না মৌসুমী, মারিয়া মান্দারা। সাফের এই আসরের আগে অবশ্য বড় আরেক লক্ষ্যপূরণের মিশনে নামতে হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৬ দলকে। মিয়ানমারে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত বাছাইয়ের আসরটি বসতে যাচ্ছে আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি।

আসছে সাফে বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। যেখানে তাদের লড়তে হবে স্বাগতিক নেপাল, ভুটান এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে। আগের চারবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে হয়েছে আসরের ‘বি’ গ্রুপ। সাম্প্রতিক সময়ে মেয়েদের ফুটবলের ক্রমোন্নতি বিবেচনায় এখন আর গ্রুপ পর্ব নিয়ে মাথাব্যথা থাকার কথা নয় বাংলাদেশের। গ্রুপে তাদের মূল পরীক্ষা হবে স্বাগতিক নেপালের সঙ্গে। বাকি দু’দলকে হেসেখেলেই হারানোর কথা। দলের কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের অন্তত তেমনটাই বিশ^াস, ‘সাফে আমরা বড় স্বপ্ন নিয়েই খেলতে যাব। কারণ ভারত বাদে বাকি দলগুলোকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের রয়েছে। নেপালের সঙ্গে লড়াই আগের মতো আর অসম নেই। সুতরাং লক্ষ্যটা ফাইনাল।’ ছোটনের অবশ্য এখনই সাফ নিয়ে খুব বেশি ভাবনার সুযোগ নেই। এ মাসেই যে তাদের দিতে হবে আরেকটা পরীক্ষা। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুবাদে এবারও একই রকম লক্ষ্য বাংলাদেশের সামনে। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন, ফিলিপাইন এবং স্বাগতিক মিয়ানমার। গ্রুপের সেরা দুটি দল নাম লেখাবে আগামী বছরের চূড়ান্ত পর্বে।

এই মুহূর্তে একসঙ্গে ৫০ জন ফুটবলারকে নিয়ে ট্রেনিং ক্যাম্প চালাচ্ছেন ছোটন। এই ৫০-এর মধ্যেই রয়েছে অনূর্ধ্ব-১৬, ১৯ এবং মূল দলের সব ফুটবলার। তাদেরই একজন মিসরাত জাহান মৌসুমী। যিনি তৈরি হচ্ছেন সাফের জন্য। সাফে লক্ষ্য কী হবে, জানতে চাইলে এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘সিনিয়র সাফে ভালো করার জন্য আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। সাফের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে অনেকবার খেলা হয়েছে। অলিম্পিকের বাছাই পর্বে ভারত ও নেপালের বিপক্ষে খেলেছি। সেই ম্যাচগুলোতে যে ভুলগুলো করেছিলাম তা কাটিয়ে ভালো কিছুর আশা নিয়েই যাব।’ গত বছর শেষদিকে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক বাছাই পর্বে বাংলাদেশকে ৭-০ গোলের লজ্জায় ডুবিয়েছিল ভারত। আর নেপালের সঙ্গে ম্যাচটা হয় ১-১ ড্র। ভারতের কাছে সেই হারটাকে নিছক একটা বাজে দিন মনে করেন কোচ ছোটন, ‘এটা আসলে একটা বাজে দিন গেছে। অবশ্যই ভারত বয়স এবং অভিজ্ঞতায় এখনো আমাদের চেয়ে এগিয়ে। তাই বলে এত গোলে হারার মতো দল আমরা নই।’ অনূর্ধ্ব-১৬ দলের পাশাপাশি মারিয়া মান্দাকে ভাবতে হচ্ছে সাফ নিয়েও। এই বয়সেই মূল দলে জায়গা করে নেওয়া এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমরা আগেরবার রানার্সআপ হয়েছি। এবার অবশ্যই লক্ষ্য থাকবে চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’ আসছে দিনগুলোতে এই বড় দুটি পরীক্ষা সফলভাবে উতরানোর লক্ষ্যে ঘাম ঝরাচ্ছে মেয়েরা।