শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সরকারি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা

দুগ্ধজাত খাবারে ক্ষতিকর মাত্রায় অণুজীব

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪৭ এএম

দেশে গাভীর দুধ ও দুধজাত সব ধরনের খাবার, প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গোখাদ্যে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক, নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান ও বিভিন্ন অণুজীব পাওয়া গেছে। সরকারের ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ল্যাবরেটরির গবেষকরা বলেছেন, প্রায় সব গোখাদ্যে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কীটনাশকও মিলেছে কোনো কোনো খাবারে। সিসা ও ক্রোমিয়ামও আছে।

গতকাল রবিবার ল্যাবরেটরির প্রধান অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসী জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান মিলনায়তনে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদসহ ল্যাবরেটরি ও জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভীর খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এই জরিপের কাজ করছে এনএফএসএল।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক খাবারে ভেজাল রোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আইন থাকলেই চলবে না, আইনের প্রয়োগ হতে হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতার পূর্ণ প্রয়োগ করা হবে যাতে ভেজাল খাদ্য না খেতে হয়।

ডা. শাহনীলা ফেরদৌসী বলেন, যেসব ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে, সেগুলো মানুষের রোগ প্রতিরোধ শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সিসা ও ক্রোমিয়াম ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।

এই ল্যাবরেটরি প্রধান জানান, ঢাকাসহ ৪ জেলার ২৭ উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই খামার থেকে গরুর দুধ ও খাবার সংগ্রহ করা হয়েছে। দই ঢাকা শহরের বিভিন্ন ব্র্যান্ড দোকান ও আশপাশের উপজেলার দোকান এবং বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধ এবং আমদানি করা প্যাকেটজাত দুধ বিভিন্ন সুপার স্টোর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে ল্যাবরেটরিতে পৌঁছানোর পর পরীক্ষানিরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ৬৯-১০০ শতাংশ গোখাদ্যে বিভিন্ন রকমের রাসায়নিক কীটনাশক, সিসা, ক্রোমিয়াম, টেট্রাসাইক্লিন, এনরোফ্লোক্সাসিন, সিপ্রোসিন এবং আফলাটক্সিন গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রা পাওয়া গেছে। গরুর দুধের ৯ শতাংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কীটনাশক, ১৩ শতাংশে টেট্রাসাইক্লিন, ১৫ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া গেছে। ৯৬ শতাংশ দুধে মিলেছে বিভিন্ন অণুজীব।

প্যাকেটজাত দুধের ৩০ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি হারে আছে টেট্রাসাইক্লিন ও একটি নমুনায় সিসা মিলেছে। একই সঙ্গে ৬৬-৮০ শতাংশ দুধের নমুনায় বিভিন্ন অণুজীব পাওয়া গেছে।

দইয়ের ৩৩টি নমুনার মধ্যে একটিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা পাওয়া গেছে। আর ৫১ শতাংশ নমুনায় মিলেছে বিভিন্ন অণুজীব।

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব উপাদান পাওয়া গেছে, এগুলো যে কারও শরীরে ঢুকে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর মধ্যে সিসা ও ক্রোমিয়াম ক্যানসার তৈরি করতে পারে। সাধারণত দুধ গরম করার পর কিছু অণুজীব নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু এই পরীক্ষায় যে ধরনের রাসায়নিক উপাদান পাওয়া গেছে, যেমন অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক বা সিসা এগুলো নষ্ট হয় না। বিশেষজ্ঞরা মাঠ পর্যায়ে গরুর দুধ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং দুধ পাস্তুরিত করার প্রক্রিয়ার দিকে সতর্ক নজরদারির পরামর্শ দেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত