শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

‘কর্তৃত্ববাদী’ বাংলাদেশকে পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১৪ এএম

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার শিকার হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু তারপরেও বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত আছে। দুই পক্ষের স্বার্থের কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপকারী সহযোগী হিসেবে মনে করছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে বাংলাদেশের নির্বাচন, নির্বাচন-পরবর্তী ওয়াশিংটন-ঢাকার সম্পর্ক ও স্বার্থ নিয়ে এমন মন্তব্য করেন যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাংক উইড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ মাইকেল কুগেলম্যান।সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বের অষ্টম জনবহুল ও মডারেট মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের মানুষ পশ্চিমা বিশ্বের সহযোগিতাকে স্বাগত জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের উষ্ণ সম্পর্ক থাকলেও তা যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ নয়। গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৮ আসনে জয় পায়। বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তবে বিরোধীরা এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। দেশটির মিডিয়াও আইনের কঠোরতার শিকার হচ্ছে।

বাংলাদেশ এক পার্টির কর্র্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বলে কুগেলম্যান বলেন, ‘আমার মনে হয়, যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনাকে দরকারি অংশীদার হিসেবে মনে করে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান এবং তার আমলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে ব্যাপক রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার একজন সমর্থক ও চর্চাকারী হিসেবে ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।’যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ প্রকাশ করে। পর্যবেক্ষকদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে নির্বাচনের আগে উদ্বেগ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্র। যদিও নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক লিখিত চিঠিতে শেখ হাসিনাকে তার সাফল্যের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি হাসিনাকে মানবাধিকার রক্ষার, ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব না করার প্রতিশ্রুতি মনে করিয়ে দেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।

ইসলামিস্টদের শত্রু শেখ হাসিনা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী ইস্যুতে অত্যন্ত কঠোর শেখ হাসিনা। এই দলটির পাঁচ নেতাকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এছাড়াও মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন শেখ হাসিনা।

নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগকে খুব একটা আমলে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার এমন কোনো লক্ষণ নেই। শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ তার তথ্য এবং প্রযুক্তি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। তিনি নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিকে ‘হতাশাজনক’ আখ্যা দিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় সমর্থকদের দায়ী করেছেন।কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। দেশটির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করে জয় বলেছেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে, যা প্রতি বছর ছয় শতাংশ করে বাড়ছে।

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশাল ভোক্তা বাজার রয়েছে। এখানে প্রায় ৮ কোটি মধ্যবিত্ত মানুষ রয়েছেন। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব সফলতা পেয়েছে। বিশ্বের অল্প যে কয়েকটি সন্ত্রাসমুক্ত মুসলিম দেশ রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন বাস্তবতার আলোকে পলাতক রোহিঙ্গাদের প্রতি সরকারের সত্যিকারের সহানুভূতি রয়েছে। ইউরোপে অভিবাসীরা যে ধরনের নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন, এখানে সে ধরনের পরিস্থিতি হয়নি।যুক্তরাষ্ট্রবান্ধব ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল তৈরির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখছে। শ্রীলঙ্কার মতো বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে অনেক বেশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন চুক্তি করেনি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশি স্পর্শকাতর ফ্যাক্টর হচ্ছে প্রতিবেশী, আঞ্চলিক শক্তি ও ওয়াশিংটনের অন্যতম মিত্র ভারত। দেশটি শেখ হাসিনাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করছে। ফলে বাংলাদেশের সমালোচনা করার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটনের সুযোগ সীমিত। যদিও বিরোধীরা আশাবাদী যে, যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার মুখেও পড়তে পারে বাংলাদেশ।

বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির নির্বাচনকে সামনে রেখে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এটা পরিষ্কার করা উচিত যে, যদি গণতান্ত্রিক পরিবেশ দেখা না যায়, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করবে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগকারী এবং বাণিজ্যিক বাজার।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত