মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ভোটের দিন সকালে হলে হলে ব্যালট পাঠানোর চিন্তা

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:০৩ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হিসেবে হলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে বলে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক এস এম মাহফুজুর রহমান জানিয়েছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার সকালে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডাকসু ও হল সংসদগুলোর নির্বাচন। ছাত্রলীগ নেতৃত্বাধীন ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বাদে ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে। হলে ভোটকেন্দ্র থাকলে আগের রাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন বিএনপির কোনো কোনো নেতা। এই পরিস্থিতিতে হলে ভোটকেন্দ্র করা হলেও ব্যালট পেপার সকালে পাঠানোর একটি প্রস্তাব আসে নির্বাচন পরিচালনাকারীদের কাছে। এই প্রস্তাবের বিষয়ে অধ্যাপক মাহফুজ বলেন, প্রস্তাবটা তারা গ্রহণ করেছেন। চূড়ান্ত করার জন্য তারা সবার সঙ্গে আলোচনা করছেন।

হলে ছাত্রলীগের ‘দখলদারিত্ব’ থাকায় ভোট দেওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই বলে ছাত্রদল ও প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতারা দাবি করে আসছেন। এ বিষয়ে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা শিক্ষার্থী তারা নির্বিঘেœ হলে যাওয়া-আসা করছে, যাদের হলের অফিসে কাজ থাকে, তারা সেখানে যাচ্ছে। কর্র্তৃপক্ষের কাজ হচ্ছে সকল ভোটার যাতে নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে ধরনের পরিবেশ তৈরি করা।’

রেওয়াজ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনই নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখভাল করবে বলে জানান অধ্যাপক মাহফুজ। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় একটা সেনসিটিভ জায়গা। এটা পুলিশ কর্র্তৃপক্ষ যেমন জানে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জানে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তো পুলিশ হলে প্রবেশ করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় যদি মনে করে যে পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন আছে, তখন তারা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কর্র্তৃত্বমূলক ভূমিকায় তারা যেতে পারবে না।’

তফসিলে প্রচার-প্রচারণার জন্য কম সময় রাখার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই প্রচারের সুযোগ থাকছে। এছাড়া আন-অফিশিয়ালি তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই তো প্রচার-প্রচারণা চলছে এবং শিডিউল ঘোষণার পর তো আরও জোরেশোরেই চলবে। যে তারিখে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, নির্বাচনের জন্য কর্মকাণ্ড সেদিন থেকেই শুরু করা যাবে। আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রচার-প্রচারণা নির্বাচনের এক দিন আগে শেষ হবে। কিন্তু শুরুটা কখন হবে তা বলা হয়নি।’

ক্লাসরুমে প্রচার চালাতে বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দাবির বিষয়ে অধ্যাপক মাহফুজ বলেন, আচরণবিধি তৈরির সময় অনুষদের ডিনরা এবং বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানরা এ বিষয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ক্যাম্পেইন তো হবে হল পর্যায়ে। কেউ চাইলে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে বাইরেও সভা-সমাবেশ করতে পারবে।

নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রাখতে ছাত্রসংগঠনগুলোর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনগুলোর ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। এই সমস্যাটা এক-দুই দিনের না, এটা দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে। এই সংস্কৃতিটা পরিবর্তনের দিকে যেতে হবে। কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও সেগুলোকে মেনে নিয়ে পরিবেশটা যাতে ঠিক থাকে সেদিকে যেতে হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত