মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মিয়ানমারে গোলাগুলি, তমব্রু সীমান্তে আতঙ্ক

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৩:১২ এএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তমব্রু সীমান্তবর্তী মিয়ানমারে গত সোমবার গভীর রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এতে ওই অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এদিকে মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতি জানিয়েছে, উত্তর রাখাইনে ‘আরাকান আর্মি’র সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ চলছে। সেখানকার বিভিন্ন শহর ছেড়ে পালাচ্ছে বাসিন্দারা।

তমব্রু সীমান্তের কাছে সোমবার রাত সাড়ে ৪টার দিকে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। যা প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলে। তবে কোনো গুলি বাংলাদেশের কোথাও আঘাত করেনি। বিষয়টি জানতে চেয়ে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) কর্র্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর ইকবাল আহমেদ আমাদের বান্দরবান প্রতিনিধিকে বলেন, ‘গভীর রাতে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বেশ কিছুক্ষণ গোলাগুলির শব্দ হয়েছে। তবে কোনো গুলি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোথাও আঘাত হানেনি। আমরা বিষয়টি জানতে চেয়ে বিজিপিকে চিঠি পাঠাচ্ছি।’

তমব্রু সীমান্তের ওপারে জিরো লাইনে নিয়মিত আসা-যাওয়া করা রোহিঙ্গা আলী আসগর বলেন, ‘গভীর রাতে হঠাৎ করে গুলির শব্দ শুনতে পাই আমরা। এর সঙ্গে ভারী অস্ত্রের শব্দও শোনা গেছে। তবে কারা কোথায় গুলি করছে তা আমরা বুঝতে পারিনি। এ ঘটনায় জিরো লাইনের আশপাশে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।’

এদিকে সোমবার এক প্রতিবেদনে ইরাবতি বলছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তর অংশে বেশ কয়েকদিন ধরে স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষ চলছে। এ অবস্থায় গত সপ্তাহে চি’তো শহরতলির সাংদু গ্রামের ৫ শতাধিক বাসিন্দা এলাকা ছেড়েছেন। তারা পোনাং শহরতলিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রবিবার আরাকান আর্মি জানায়, চি’তোর কাছে প্রায় ২০০ যোদ্ধা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে। এতে আরাকান আর্মির এক সদস্য ও সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ১৬ সেনা সদস্যকে হত্যার দাবিও করে তারা। তবে এ বিষয়ে দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

এদিকে রাখাইন ইথনিক কংগ্রেসের এক স্বেচ্ছাসেবী জানান, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর রাখাইনের বেশ কয়েকটি শহর থেকে কমপক্ষে ৭ হাজার বাসিন্দা পালিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতন শুরুর পর এ পর্যন্ত সাড়ে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ এটিকে জাতিগত নিধন অভিযান ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতকরণ বলে অভিহিত করেছে। আন্তর্জাতিক চাপে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি করলেও এর বাস্তবায়ন শুরু করেনি মিয়ানমার। আগে থেকেই আরও ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত