শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কর্ণফুলীর তীরে আরও ২৫০ একর ভূমি উদ্ধারের লক্ষ্য

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:১৭ এএম

প্রায় এক সপ্তাহ বিরতি দিয়ে কর্ণফুলীর তীরে অবৈধ দখলে থাকা ভূমি উদ্ধারে আবার উচ্ছেদ অভিযানে নামছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এবারের লক্ষ্য বেদখল হওয়া ২৫০ একর ভূমি উদ্ধার। এর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা পাঁচ দিনের অভিযানে সদরঘাটের লাইটারেজ জেটি থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত ১০ একর ভূমি উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে উদ্ধারকৃত এসব জায়গায় দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে সীমানা পিলার।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ইলিয়াস হোসেন গত মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথম ধাপে নগরীর সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। বর্তমানে উচ্ছেদকৃত এসব জায়গায় সীমানা পিলার ও দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। আরএস অনুযায়ী চলছে জরিপের কাজ। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কর্ণফুলীর উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

তিনি জানান, কর্ণফুলীর তীরে আরও অনেক অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এসব স্থাপনা উচ্ছেদে দ্বিতীয় ধাপে অভিযান চালানো হবে। উদ্ধারকৃত এসব জায়গায় বিনোদনকেন্দ্রসহ বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান মুক্ত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সদরঘাটের লাইটারেজ জেটি থেকে বারিক বিল্ডিং পর্যন্ত এরই মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে কর্ণফুলীর তীরবর্তী সদরঘাট থেকে বারিক বিল্ডিং এলাকার অবৈধভাবে দখলে থাকা প্রায় ১০ একর ভূমি উদ্ধার হয়েছে। এখন পরবর্তী অভিযানের জন্য জরিপ করা হচ্ছে। পতেঙ্গা অংশে লালদিয়ার চর, বিজয়নগর, বোটক্লাব থেকে ১৫ নম্বর জেটি পর্যন্ত এবং সদরঘাটের লাইটারেজ জেটি থেকে মোহরা পর্যন্ত জরিপ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘জরিপে ২৫০ একর ভূমি বেদখলে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। এমনকি সেখানে পাকা, আধা-পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে অনেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। আমরা এসব চিহ্নিত করেছি। এবার কর্ণফুলীর তীরে অবৈধভাবে দখলে থাকা এসব ভূমি উদ্ধার করা হবে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় শিগগিরই অভিযান শুরু হবে।’

২০১০ সালের ১৮ জুলাই কর্ণফুলী নদী দখল, মাটি ভরাট ও নদীতে সব ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এক রিট আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নদীর দুই তীরের প্রায় দুই সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ নানা জটিলতায় এতদিন উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত