পেটের সন্তানকে বাঁচাতে ব্রিটেনে ফিরে আসতে চান আইএসে যোগ দেয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী শামিমা বেগম। চার বছর আগে সিরিয়ায় পাড়ি দেয়া এই তরুণী এখন ৯ মাসের গর্ভবতী।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্কুলপড়ুয়া তিন তরুণী যুক্তরাজ্য থেকে পালিয়ে সিরিয়ায় আইএসের সঙ্গে যোগ দেন। এদের মধ্যে শামিমা বেগম (১৯) এবং খাদিজা সুলতানা (২০) ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তারা পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি-অধ্যুষিত বেথনাল গ্রিন একাডেমি নামের একটি স্কুলের ছাত্রী ছিলেন।
সিরিয়ায় আইএস দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়ছে। যারা বেঁচে আছেন, তারা আত্মসমর্পণ করছেন। এমন অবস্থায় শামিমা এক বন্দি শিবিরে আছেন।
২০১৫ সালে রাকায় পৌঁছানোর পর ডাচ নাগরিক ইয়াগো রেইজিককে বিয়ে করেন শামিমা। রেইজিক তার থেকে ১২ বছরের বড়। শামিমার স্বামী সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
দ্য টাইমস সংবাদপত্রের সঙ্গে আলাপকালে নিজের ফেরার ইচ্ছার কথা জানান শামিমা। সঙ্গে এও বলেন, সিরিয়ায় আসার জন্য তার কোনো অনুতাপ নেই।
‘রাকায় আমরা প্রায় স্বাভাবিক জীবন-যাপনই করি। মাঝেমাঝে অভিযান চালানো হয়। এখানে আসার জন্য আমার কোনো অনুতাপ নেই।’
তিনি জানান, তার দুই বান্ধবী খাদিজা সুলতানা এবং আমিরা আব্বাসও বিদেশি আইএস যোদ্ধাদের বিয়ে করেন। ২০১৬ সালের এক অভিযানে খাদিজা মারা যান। আমিরা এখনো বেঁচে আছেন।
এর আগে শামিমার এক বছরের মেয়ে এবং তিন মাসের ছেলে মারা যায়। সামনে যে আসছে তাকে তিনি বাঁচাতে চান।
‘এখানে থাকলে হয়তো আমার এই সন্তানও মারা পড়বে। কিন্তু ওকে আমি বাঁচাতে চাই। তার জন্য যা করার, সব করতে চাই।’
শামিমার বোন রিনু ব্রিটিশ সরকারের কাছে বোনের ফিরে আসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।
