ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন পরিচালনায় গঠিত কমিটিগুলোর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রদল অভিযোগ করেছে, এসব কমিটিতে জায়গা পাওয়া শিক্ষকদের সবাই সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক। এক দশক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান বিএনপির সহযোগী ছাত্রসংগঠনটির নেতারা গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো মধুর ক্যান্টিনে এসে সাংবাদিকদের সামনে এ অভিযোগ করেন। এদিন ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে নেওয়ার দাবিতে চার দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট। উল্টোদিকে ছাত্রলীগের সমর্থন নিয়ে টিএসসিকেন্দ্রিক ২২টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’ সংবাদ সম্মেলন করে ভোটকেন্দ্র হলেই রাখার দাবি জানিয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, ঢাবি শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ছাত্রদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী মধুর ক্যান্টিনে আসেন। আকরামুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য গঠিত কমিটিগুলোতে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ শিক্ষক নেই। যাদেরকে এসব কমিটিতে রাখা হয়েছে, তারা সবাই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমর্থক। তাই এসব কমিটিতে গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য গত ১৭ জানুয়ারি ১৫ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ এবং ১৯ জানুয়ারি ডাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যবিশিষ্ট ‘আচরণবিধি প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করা হয়। ছাত্রসংগঠনের অভিযোগ, এসব কমিটিতে সরকার সমর্থিত শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আধঘণ্টা পর মধুর ক্যান্টিনে আসেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আশা করছি প্রশাসন আমাদের দেওয়া সাত দফা দাবির বিষয়ে আন্তরিকতা প্রকাশ করবে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে আসা শুরু করেছে। তবে আমরা শুধু ডাকসুকেন্দ্রিক ক্যাম্পাসে সহাবস্থান চাই না। আমরা চাই সব সময় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকুক। প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আল্টিমেটাম
ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে নেওয়ার এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চার দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট।
পরে উপাচার্য কার্যালয়ের বাইরে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান ও সমাবেশ শেষে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলেন ছাত্রজোট নেতারা। উপাচার্য তাদের বক্তব্য শুনলেও কোনো আশ্বাস দেননি। পরে দাবি মানতে চার দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে ফিরে যান জোটের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর বলেন, ‘হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য ও দখলদারি জারি রয়েছে। এ অবস্থায় হলে ভোটকেন্দ্র থাকলে নির্বাচন প্রভাবিত হবে। নির্বাচনের আলোচনা শুরুর পর থেকেই আমরা অ্যাকাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু ছাত্রলীগকে সুবিধা দিতে প্রশাসন সেই দাবি উপেক্ষা করেছে। আমরা মনে করি, এ পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে।’
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইমরান হাবিব ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (মার্কসবাদী) ঢাবি শাখার সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বক্তব্য দেন। হলেই ভোটকেন্দ্র চায় টিএসসির ২২ সংগঠন দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রলীগ নেতাদের পাশে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলেই রাখার দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিকেন্দ্রিক ২২টি সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদে’র মুখপাত্র ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি এস এম রাকিব সিরাজী।। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, টিএসসিকেন্দ্রিক সংগঠনগুলো ডাকসু নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির সঙ্গে থাকবে। ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলে রাখার বিষয়টিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বাগত জানিয়েছে। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, এই (সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ) সংগঠনের ব্যানারে ডাকসু নির্বাচনের প্যানেল ঘোষণা করা হবে। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদও এর সঙ্গে থাকবে বলে জানান তিনি।
