নির্বাচন পরিচালনা কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনোরকম আপসের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, মনে রাখতে হবে আপনাদের দক্ষতার ওপর, পারদর্শিতার ও নিরপেক্ষতার ওপর নির্ভর করে সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আমি আশা করি, কখনো কারও প্রতি কোনোরকমের দুর্বলতা আপনাদের থাকবে না। কোনো পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। নূরুল হুদা বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা সম্পূর্ণ উপজেলা পরিষদে নির্বাচন বন্ধ করার সুপারিশ করতে পারে। কমিশন যদি মনে করে সুপারিশের পেছনে যুক্তি আছে তাহলে ওই এলাকার নির্বাচন বন্ধ করে দিতে পারে।
সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইসিতে আত্মবিশ্লেষণ হয়নি : ইসি মাহবুব
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কমিশনে এখন পর্যন্ত আত্মবিশ্লেষণমূলক আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গতকাল সকালে একই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র কখনো একদলীয় হয় না। বহুদলীয় না হলে গণতন্ত্র রূপ লাভ করে না। এজন্য নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার বিষয়টিতে সর্বদা গুরুত্বারোপ করা হয়। তবে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া নিতান্তই প্রাথমিক প্রাপ্তি। নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হতে হয়। এ দুটি শব্দের পরিমাপক জনগণ, যারা নির্বাচন করেন তারা নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রেক্ষাপট মনে রেখে আগামী উপজেলা নির্বাচন যাতে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার প্রতি জনগণকে অধিকতর আস্থাশীল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু ও শুদ্ধ। বিতর্কিত বা প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কখনো কাম্য নয়।’ রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আপনারা আসন্ন পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনের মূল শক্তি। আপনাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা আছেন। সবার সঙ্গে সমন্বয় করে সর্বাঙ্গীন সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার মূল দায়িত্ব আপনাদের। মনে রাখতে হবে যে, নির্বাচন কমিশন সরাসরি নির্বাচন করে না। আপনাদের সাফল্যের ওপরই নির্বাচন কমিশনের সাফল্য নির্ভরশীল।’
