ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুরে গরু জব্দকে কেন্দ্র করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে করা দুই মামলার একটিতে আসামিদের তালিকায় তাদেরই গুলিতে নিহত দুই গ্রামবাসীও রয়েছেন। গত মঙ্গলবার বিজিবি সদস্যদের ছোড়া গুলিতে তিনজন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।
হরিপুর থানার ওসি মো. আমিরুজ্জামান জানান, বিজিবির ঠাকুরগাঁও ৫০ ব্যাটালিয়নের হরিপুর উপজেলার বেতনা সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে দুটি মামলা করেন। প্রথমে তিনজনকে আসামি করে একটি চোরাচালানির মামলা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারত থেকে গরু আনার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এই মামলায় বিজিবি সদস্যদের গুলিতে নিহত শিক্ষক নবাব আলী (৩০) ও সাদেকুল ইসলামের (৪০) নাম রয়েছে। অন্য আসামি হলেন বকুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম। এছাড়া বিজিবি সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগে ১৯ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনের বিরুদ্ধে অন্য মামলাটি করা হয়। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ জানান, মঙ্গলবার বহরমপুর গ্রামে বিজিবির ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
ওসি আমিরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, বিজিবি সদস্যদের ওপর চড়াও, অস্ত্র নিয়ে প্রাণনাশের চেষ্টা, সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা, অস্ত্রের ক্ষতিসাধন ইত্যাদি অভিযোগে ওই মামলা করা হয়েছে।’ তিনি জানান, মামলা দুটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের নির্দেশের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বহরমপুর গ্রামের এক ব্যক্তি গরু বিক্রি করতে যাদুরানী হাটের উদ্দেশে বের হন। ওই গরু ভারত থেকে পাচার করে আনা হয়েছে সন্দেহে বেতনা ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা তা জব্দ করেন। নিজেদের গরু উল্লেখ করে গ্রামবাসী তা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি গুলি ছোড়ে। এতে রুহিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নবাব, জহিরুলের ছেলে সাদেকুল ও বহরমপুর গ্রামের নূর ইসলামের ছেলে জয়নুল (১২) নিহত হন। গুলিবিদ্ধ হন আরও ১৫ জন। এদের মধ্যে ১৪ জন দিনাজপুর আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও একজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিজিবির দাবি, জব্দ করা গরু বিওপিতে নেওয়ার সময় চোরাকারবারিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি সদস্যরা তখন গুলি চালাতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় তাদের পাঁচজন আহত হয়েছে বলেও দাবি বিজিবির।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে ঢাকাস্থ হরিরামপুরবাসী। মানববন্ধনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আলামীন বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমরা (গ্রামবাসী) এজাহার নিয়ে থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। বরং বিজিবি বৃহস্পতিবার হরিপুর থানায় গ্রামবাসীকে আসামি করে মামলা করেছে।
