কবি আল মাহমুদের পৈতৃক ভিটায় তার নিজের কোনো থাকার ঘর নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কখনো গেলে তিনি তার ভাইয়ের ঘরে থাকতেন। অভিমানে নিজের জন্মস্থানের সঙ্গেও শেষ এক যুগ কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
রোববার বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে। শনিবার বিকেলে কবির পরিবার ও স্বজনরা এ তথ্যটি নিশ্চিত করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সভাপতি, কবি আল মাহমুদের আত্মীয় হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি জানান, রোববার বাদ জোহর তার নিজ এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের দক্ষিণ মৌড়াইল বাড়ি সংলগ্ন নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাকে দক্ষিণ মৌড়াইল কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
আল মাহমুদের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শহরের দক্ষিণ মৌড়াইল এলাকার মোল্লা বাড়ি ও মীরবাড়ি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার রাত থেকে কবির পৈতৃক বাড়িতে আত্মীয়স্বজনরা ভিড় করতে থাকেন। শনিবারও স্বজনদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
কবির কিশোরবেলার সঙ্গী, প্রবীণ সাংবাদিক-গবেষক মুহম্মদ মুসা বলেন, ছোটবেলা থেকে আমরা একসঙ্গে চলাফেরা করতাম। তার সাহিত্যচর্চার শুরু থেকে আমি যুক্ত ছিলাম। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসলে আমাকে নিয়েই ঘুরে বেড়াতেন। তার মৃত্যুতে আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় স্বজনকে হারিয়েছি।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোকষ্ট থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা ছেড়ে দিয়েছিলেন ‘সোনালি কাবিন’র কবি।
১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই মৌড়াইল মহল্লার মোল্লা বাড়িতে জন্ম নেয়া আল মাহমুদ দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ছিলেন সবার বড়।
পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকার কারণে মাঝে-মাঝে অল্প সময়ের জন্য পৈতৃক ঠিকানায় আসতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত কয়েক বছর ধরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসা-যাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তার নিজের কোনো ঘর নেই। যখন আসতেন, প্রয়াত ছোট ভাইয়ের বাসায় উঠতেন।
তার ভাতিজা মীর রব্বান হোসেন বলেন, কাকা মাঝে-মাঝে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এলেও নিজ পৈতৃক ভিটাতে থাকেননি প্রায় এক যুগের বেশি সময়। আর অসুস্থতাজনিত কারণে অনেক দিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসেননি।
তিনি বলেন, নিজ বাড়িতে যখন আসতেন তখন তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড় লেগে থাকত। তাদের সঙ্গে গল্প করে অনেক সময় দিতেন। দিনে বেশি ভাগ সময় বসে থাকতেন বাড়ির সামনের পুকুর ঘাটে। অনেক সময় বড়শি দিয়ে মাছও শিকার করতেন।
তিনি আরও বলেন, কাকার পৈতৃক ভিটায় আগের দিনের একটি চৌচালা ঘর ছিল। ওই ঘরেই তারা জন্ম, বেড়ে ওঠা। তার বাবা-মায়ের সে স্মৃতিময় ঘরে অবস্থান করতেন।
মীর রব্বান বলেন, ঘরটি ভেঙে এখন ইটের ভবন করায় মনে অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই উনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আসা কমিয়ে দিয়েছিলেন।
আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন পিয়ারু মিয়া নামে। তার ছোট ভাই মীর ফরহাদ হোসেন মারা গেছেন আরও আগে।
