আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানীর সরকারি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা শুরু হয়েছে। শিশু ওয়ার্ড ছাড়া হাসপাতালের সব ওয়ার্ডে স্বাভাবিকভাবে রোগী ভর্তি চলছে। শিশু বিভাগের জরুরি রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ আশা করছে, রঙের কাজ শেষে আগামীকাল থেকে শিশু ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি শুরু হবে।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিশু ওয়ার্ড ছাড়া সব ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি হচ্ছে। হাসপাতাল এখন স্বাভাবিক। এখনো ওষুধ বা অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সংকট দেখা দেয়নি। যে কোনো সংকটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আশা করছি কোনো সংকট হবে না। কারণ আমাদের ওষুধ মজুদ রয়েছে।’
অগ্নিকাণ্ডের কারণে স্টোর রুমসহ গোটা হাসপাতালের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তর পৃথকভাবে কাজ করছে। স্টোর রুমের দায়িত্বে থাকা এসএলপিপি নন্দ লাল সাহা দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্টোর রুমের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আজ (গতকাল রবিবার) অধ্যাপক ডা. ফাতেমা আশরাফকে প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।
হাসপাতালের পরিচালক বলেন, হাসপাতালের কমিটি স্টোর রুমের ক্ষতি নিরূপণ করবে। আর পিডব্লিউডির সিভিল ও ইলেকট্রিক বিভাগ আলাদাভাবে কাজ করছে। সবগুলো একসঙ্গে যুক্ত করলে মোট ক্ষতি বের হয়ে আসবে।
গতকালও হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল থেকেই ছিল নতুন রোগীদের ভিড়। আগুনের কারণে হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়া ১ হাজার ১৭৮ জন রোগীর মধ্যে প্রায় ১ হাজার রোগী ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। সব বিভাগেই রোগী দেখা ও ভর্তি করা হচ্ছে। রোগীদের অভ্যর্থনার দায়িত্বে থাকা আখতারুজ্জামান জানান, গতকাল রবিবার পর্যন্ত স্থানান্তরিত হওয়া রোগীদের এক হাজারের ওপর ফিরে এসেছে। সব বিভাগে নতুন রোগীরাও ভর্তি হচ্ছে।
গতকাল থেকে নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের অন্যান্য বিভাগে রাখা হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে রঙের কাজ চলছে। হাসপাতালটির স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রুপালী দে বলেন, ‘গতকাল পর্যন্ত ৯ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়া অন্যগুলো পরিষ্কার শেষ হয়েছে। তৃতীয় তলার ক্ষতিগ্রস্ত ১১ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে রঙের কাজ চলছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি।’
