দশম জাতীয় সংসদ ভেঙে না দিয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯০ সংসদ সদস্যেদের (এমপি) শপথ ও তাদের পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে এ আদেশ দেন।
গত ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিদের শপথ সংবিধানের পরিপন্থী উল্লেখ করে গত ৮ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাহেরুল ইসলাম তৌহিদের পক্ষে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। নোটিশের জবাব না পাওয়ায় এবং শপথ গ্রহণ ও তাদের পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ১৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নোটিশকারী আইনজীবী।
শুনানি নিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিলে হাইকোর্টের এই বেঞ্চে ফের রিট আবেদন করা হয়। গত ৬ ফেব্রুয়ারি আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান। রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সাকিব মাহবুব।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোখলেছুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান সংসদের অধিবেশন বসেছে গত ৩০ জানুয়ারি। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম কার্যদিবসের দিন থেকেই সংসদ সদস্যরা কার্যভার গ্রহণ করে থাকেন। এর ফলে সংসদ সদস্যরা আগে শপথ নিলেও তাতে সংবিধানের কোন ব্যত্যয় এখানে ঘটেনি- এই যুক্তিতে হাইকোর্ট রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।’
আদালতের বরাতে তিনি আরও বলেন, ‘শপথ নেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকার গঠন। যে কারণে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। আর সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই সরকার গঠন করা হয়ে থাকে- এসব যুক্তি আদেশে উল্লেখ করেছেন আদালত।’
তিনি বলেন, ‘আদেশের পর রিটকারী আইনজীবী আপিলের জন্য সার্টিফিকেট চেয়েছিলেন। যদি রিট পিটিশন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয় তাহলে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এখানে রিট আবেদনটির মেরিট নেই মর্মে খারিজ হয়েছে। তাই এখানে সার্টিফিকেট দেওয়ার নিয়ম নেই। আদালত রিটকারী আইনজীবীর এই আবেদনও খারিজ করে দেন।’
রিটকারীর আইনজীবী এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘শপথ গ্রহণের দিন থেকেই এমপিরা কার্যভার গ্রহণ করেছেন বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু আদালত আদেশে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই এমপিদের কার্যভার গ্রহণের কথা বলেছেন। আমাদের কাছে মনে হয়েছে আদালতের এ মতামতের যথাযথ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। আমরা এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করব।’
