সংসদে ফখরুল ইমাম

বদি-শাজাহানকে রেখে মাদক-সড়ক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:২২ এএম

সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে বাদ দিয়ে মাদক নির্মূল এবং সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমাম।

তিনি গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তরে জানতে চেয়েছেন, আব্দুর রহমান বদিকে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ আর শাজাহান খানকে দিয়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ কতটা সম্ভব? জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শাজাহান খানের বিষয় টেনে বলেন, এখানে ব্যক্তি বিষয় নয়। একজনই পুরো রিপোর্টটি প্রণয়ন করবেন না। তিনি জানান, সভায় যখন শাজাহান খানের নাম এসেছে তখন কেউ আপত্তি করেনি। 

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের এক সম্পূরক প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

ফখরুল ইমাম প্রশ্ন তুলে বলেন, গরু-ছাগল চিনলে লাইসেন্স দেওয়া যাবে শাজাহান খানের এই মন্তব্যে সারা দেশে তোলপাড় হয়েছিল। ওনার এক হাসি ওই সময় দেশে কী পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তাকে দিয়ে সরকারের কতখানি কমিটমেন্ট রক্ষা হবে?

ওবায়দুল কাদের জবাবে বলেন, সম্প্রতি দেশে দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতির কিছু অবনতি ঘটায় আমরা জরুরিভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভা ডেকেছিলাম। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট নেতা, ইলিয়াস কাঞ্চন, সৈয়দ আবুল মকসুদসহ সড়ক বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন, ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পুলিশের কর্তাব্যক্তি।

তিনি বলেন, সভায় সকলের উপস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি সুপারিশমালা তৈরির জন্য ১৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় যাতে শাজাহান খানের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কমিটি সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে ও সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে রিপোর্ট কীভাবে পেশ করে তা দেখব। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।

সড়কে দুর্ঘটনার বিষয়টি সব থেকে দুর্ভাবনার মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, কেবল ডিভাইডার দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। পাশে ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও দেখা যায় মানুষ লাফিয়ে ডিভাইডার দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। সড়কে সব থেকে জরুরি হচ্ছে শৃঙ্খলা রক্ষা করা, কিন্তু কেউ এটা মানতে চান না। মোবাইল কানে দিয়ে মধুর স্বরে কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হন আর বাস চাপা দিয়ে চলে যায়।

রাজশাহী-৩ আসনের আয়েন উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশে সড়ক পরিবহনের আওতায় রাস্তার পরিমাণ ২১ হাজার ৫৯৫ দশমিক ৪৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক তিন হাজার ৯০৬ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক চার হাজার ৪৮২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার ও জেলা সড়ক ১৩ হাজার ২০৬ দশমিক ৯২ কিলোমিটার। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সড়ক বিভাগের সব থেকে বেশি রাস্তা রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৭৭ দশমিক ৫২ কিলোমিটার এবং সব থেকে কম মেহেরপুর জেলায় ১২৪ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত