হোয়াইটওয়াশে সান্তনা সাব্বিরের সেঞ্চুরি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:২৮ এএম

ব্যাটিং উৎসবের মাঠে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়। ডানেডিন অবশ্য শেষ ম্যাচেই সাক্ষ্য দেয় বিরাট রান তাড়া করেও এখানে জেতা যায়। কিন্তু বাংলাদেশের ওয়ানডে সফরে যতকিছু মন্দ হলো তার মধ্যে একটাই ইতিবাচক ব্যাপার। তিন ওয়ানডের সিরিজে হোয়াইটওয়াশের মাঝে সান্ত¡না শুধু সাব্বির রহমানের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটা।এর চেয়ে বাজেভাবে অবশ্য ওয়ানডে সিরিজ শেষ হতে পারত না। মাশরাফীও নতমস্তকে। বোলিং ভালো হতে হতে কোথা থেকে সব ছন্দ হারায়। দলের সবচেয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলারও বারবার মাঠের বাইরে ছিটকে পড়েন। ২৫ ওভারে ২ উইকেটে ১২০। বাকি ২৫ ওভারে ২১০!

মোস্তাফিজুর রহমান ১০ ওভারে ৯৩ রান দিয়ে নিজের সবচেয়ে খরুচে রেকর্ড করে অবনত। তার চেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড আছে শুধু দুবার শফিউল ইসলামের (৯৫ ও ৯৭)।

রেকর্ড হলো আরও নিউজিল্যান্ডের। বাংলাদেশের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সব জয় তাদের। মার্টিন গাপটিলের তিন ম্যাচেই সেঞ্চুরি না হওয়ার আক্ষেপ। তবে রস টেইলরের সাবেক অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিংকে ছাড়িয়ে দেশের সর্বোচ্চ রানের মালিক হওয়ার গর্বও এই ম্যাচে। তাও ৬৫ ইনিংস কম খেলে। ২১৮ ম্যাচে ৪৮.৩৪ গড়ে ২০ সেঞ্চুরি ও ৪৭ ফিফটিতে ৮০২৬ রান। আট হাজার করা দ্বিতীয় কিউই।

এখানে ঘুরে দাঁড়িয়ে মান বাঁচানোর প্রতিশ্রুতি ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ব্যাটিংয়ে যখন নিউজিল্যান্ডের সবাই রান করতে চান, দুই ম্যাচে বাইরে থেকে ফিরেই প্রথম দুই ওভারে টিম সাউদি নেন ৩ উইকেট। আর ম্যাচে ৬ উইকেট। তখন সব আলো এই ফাস্ট বোলারের। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট থেকে শুধু সাব্বিরের অর্জনটা টিমটিম করে জ্বলে। আবার শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের, সেরাদের ব্যাটিং ব্যর্থতার পর ৮৮ রানের হার লজ্জা ছাড়া আর কি? ইংল্যান্ড এখানে গত বছর ৩৩৫ করে ফেলল। রস টেইলরের অপরাজিত ১৮১ রান স্বাগতিকদের দিয়েছিল বিস্ময়কর জয়। এখানে শতভাগ সাফল্য তাদের। কিন্তু এই উদাহরণ বাংলাদেশের জন্য নয় এখনো বুঝি। প্রতিপক্ষের ৬ উইকেটে ৩৩০। ৪৭.২ ওভারে মাশরাফীরা অল আউট ২৪২ রানে।

প্রস্তুতি ছাড়া খেলা। বেশ বটে। আগের ম্যাচে দুটিতেই ৮ উইকেটের হার। এবার আরও রানের মাঠ। প্রতিপক্ষের উইকেট একটু বেশি পড়ল। কিন্তু রান করতে পিছপা হলো না স্বাগতিকরা। অধিনায়ক মাশরাফী কলিন মুনরোকে (৮) পঞ্চম ওভারে ফিরিয়ে অন্য কিছুর আভাস দেন। কিন্তু একের পর এক জুটিতে ভর করে হিমালয়ে উঠেছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। গাপটিল (২৯), হেনরি নিকোলস (৬৪), রস টেইলর (৬৯), অধিনায়ক টম ল্যাথাম (৫৯), জিমি নিশাম (৩৭), হার না মানা কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম (৩৭) ও মিচেল স্যান্টনার (১৬) ঝড়ের শেষটা বইয়ে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ৩১৯ এর লক্ষ্যেও জিতেছে। কিন্তু প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড নয়, নিউজিল্যান্ড এটা। এবং বাংলাদেশের তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের কীর্তি দেখুন। তামিম ইকবাল ৫, ৫ এবং এবার শূন্য। তার পার্টনার লিটন কুমার দাস ১, ১ এবং আবার ১। প্রথম ওভারে সাউদির ২ উইকেটের অন্যটি সৌম্য সরকারের। ৩০, ২২ ও শূন্য। তিনজন মিলে সাকল্যে আট বল খেলেছেন এই ম্যাচে। পাঁজরের ব্যথায় অনিশ্চয়তা থাকলেও খেলতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল মুশফিকুর রহিমের। কিন্তু টপ ভেঙে পড়ার পর মুশফিকের ১৭ বা মাহমুদউল্লাহর ১৬ কে ভালো বলার উপায় কোথায়?

বিশ্বকাপের পরিকল্পনায় আছেন বলে আগেভাগে নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে সাব্বির রহমানকে ফেরানো নিয়ে কত কথা। সেই সবুজ চোখের ছেলেটা বিরুদ্ধ স্রোতে একাই বৈঠা চালালেন। দাঁড় টানতে পেলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান মিরাজকে। ১১৯ বলে ১২ চার ও ২টি ছক্কা মেরে ১০২ রান করে সাব্বির শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন।

১০৯তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে এসে প্রথম সেঞ্চুরি সাব্বিরের। স্পেশাল। এই সিরিজে আগের দুই ইনিংস ১৩ ও ৪৩। এবং কী দারুণ সময়ে এই শতক। একেকজনের উদযাপন এমন। সাব্বিরের এমন মহার্ঘ্য সেঞ্চুরির উদযাপন তো ব্যতিক্রম হলোই। সিজদায় ধুলো জমলো কপালে। ব্যাটের নিশানা ড্রেসিংরুম হলো। মুখের কাছে হাতটা নিয়ে কিছু বলছিলেন। হয়তো বলতে চাইছিলেন, আস্থার প্রতিদান মিলবে। ভরসা থাকুক।

৯.২ ওভারে ৬৫ রানে ৬ উইকেট। তবু সাউদির সেরা না। কিন্তু কী ভয়ংকর কাণ্ডটাই না করেছেন এই অভিজ্ঞ ডানহাতি। ২.১ ওভারে ২ রানে ৩ উইকেট নেই! আতঙ্ক তখন সাউদি। মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ একটু রুখলেন। এবার ট্রেন্ট বোল্ট ও গ্র্যান্ডহোম। ৫ উইকেটে ৬১। সাইফউদ্দিন এই সিরিজে ব্যাট ভালো চালাচ্ছেন। তাকে নিয়ে ম্যাচ সর্বোচ্চ ১০১ রানের জুটি সাব্বিরের। ৬৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে বোল্টে পতন সাইফের।

ম্যাচ-সিরিজ সব তো ফসকে গেছে হাত থেকে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং এবং নিজেদের শুরুর পতনে। এর মধ্যে অষ্টম জুটিতে মেহেদী হাসান মিরাজ কিছু মানলেন না। ৩৪ বলে ৭ চারে ৩৭ করে সেই সাউদির পঞ্চম শিকার। পার্টনারশিপটা হারের ব্যবধান কমানোর। ৬৭। কিন্তু সান্তনা কে খোঁজে? নিউজিল্যান্ডে বড় বড় দলও খাবি খায়। কিন্তু বারবার বাংলাদেশের মতো এত নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ওখানে কে করছে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত