‘হঠাৎ বিকট আওয়াজ শুনতে পেলাম। আওয়াজের সঙ্গে সঙ্গে ওপর থেকে একটা আগুনের গোলা আমার গাড়ির বনেটে আইসা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে আগুন ধরে যায়। আমি ড্রাইভারের পাশের সিটেই বসা ছিলাম। গাড়ির গেট খোলার চেষ্টা করতেছি। খুলতে পারতেছিলাম না। ড্রাইভার তার পাশের গেট খুলে বের হয়ে দৌড় দেয়। আমাকে বলতেছিলো ভাইয়া তাড়াতাড়ি। পরে ড্রাইভারের ওদিক দিয়ে বের হয়ে আগুনের ওপর দিয়েই দৌড় দেই। আল্লাহ নিজে আমাদের দুইজনকে বাঁচাইছে। এই স্পটে জ্যামে আটকা পড়া যারা যারা ছিলো সবাই মারা গেছে।’
চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানসনের সামনের রাস্তায় নিজের অঙ্গার হওয়া গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই বুধবার রাতের ভয়াবহ অবস্থার কথা বলছিলেন মাহবুবুর রহমান। পেশায় তিনি আবাসন ব্যবসায়ী। বাসা চুড়িহাট্টাতেই। ঘটনার দিন মতিঝিলের অফিস থেকে ফিরছিলেন। রাত সাড়ে দশটায় ওয়াহেদ ম্যানসনের সামনের রাস্তায় অনেকের মতো জ্যামে আটকা পড়ে তার গাড়িটিও।
মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘সেদিন এখানে প্রচুর জ্যাম ছিলো। পথচারীরাও জ্যামের কারণে আটকা পড়েছিলো। গাড়ি থেকে বের হয়ে যেভাবে পারছি দৌড় দিছি। আমার ড্রাইভারও জানে না আমি বের হইছি কি না। সে ভাবছে আমি গাড়িতেই রয়ে গেছি।’
সেদিনের ভয়াবহতার ছাপ এখনো মাহবুবের চোখে-মুখে। কঙ্কাল হওয়া প্রিয় গাড়িটার দিকে বারবার তাকাচ্ছিলেন। ড্রাইভার ইউসুফ যন্ত্রপাতি নিয়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ থেকে অক্ষত পার্টস খুঁজছিলেন। সেদিন ইউসুফের দাড়ি ও চুলের কিছু অংশ পুড়ে গেছে। তবে মাহবুবের তেমন কিছু হয়নি।
মাহবুব বলছিলেন, ‘কোথা থেকে কী হলো বুঝতে পারি নাই। শুধু দেখলাম ওপর থেকে একটা আগুনের গোলা এসে পড়ল। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে গেলো।’
সেদিন তার মত আরো অনেকের গাড়িই পুড়ে অঙ্গার হয়েছে। শুধু গাড়িই নয়, গাড়ির ভেতরের মানুষগুলোও রক্ষা পায়নি। চকবাজারের এই ঘটনা কেড়ে নিয়েছে ৭০ জনের প্রাণ। ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন মাহবুব। তবে এই ভয়াবহ স্মৃতি তাকে তাড়িয়ে ফিরবে মৃত্যু অব্দি।
