৫ বছর ধরে বন্ধ, অকেজো হয়ে পড়ছে যন্ত্রপাতি

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৫ এএম

আর্থিক সংকটে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও চালু হয়নি খুলনা হার্ডবোর্ড মিল। মিলটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শ্রমিকরা। সেই সঙ্গে ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ছে মিলের যন্ত্রপাতি।

খুলনা হার্ডবোর্ড মিল সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের আগাম সুন্দরী কাঠে নির্ভর করে ১৯৬৫ সালে নগরীর খালিশপুরে ভৈরব নদের তীরে ৯ দশমিক ৯৬ একর জমিতে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন খুলনা হার্ডবোর্ড মিলটি নির্মাণ করে। ১৯৬৬ সালে মিলটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়। শুরুতেই বছরে ২১৫ লাখ বর্গফুট হার্ডবোর্ড উৎপাদন করতে থাকে মিলটি। লাভজনক হওয়ায় স্বর্ণপদক পায় খুলনা হার্ডবোর্ড মিল। ১৯৯১ সালে সরকারের নির্দেশে বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ সুন্দরবনের কাঠ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর বিভিন্ন প্রজাতির দেশি জ্বালানি কাঠ বেশি দামে কিনে মিলটিতে উৎপাদন চালু রাখে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। সরকার ভর্তুকি না দেওয়ায় ও চড়া দামে দেশি জ্বালানি কাঠ কেনাসহ দফায় দফায় ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়ায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে থাকে মিলটি। আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে ২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মিলটি বন্ধ করে দেয় বিসিআইসি। এতে বেকার হয়ে পড়েন প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক। ২০০৫ সালের ১৪ আগস্ট মিলটি পুনরায় চালু হলেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও মূলধনের অভাবে কয়েক দফায় বন্ধ করে দেওয়া হয় পুরোনো যন্ত্রপাতি নিয়ে উৎপাদনে যাওয়া এই মিল। ২০১০ সালের ১৬ জুলাই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে চালু করা হলেও ২০১১ সালের ২১ এপ্রিল মূলধন সংকটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালের নভেম্বরে সরকার বিসিআইসির মাধ্যমে মিলটি চালুর উদ্যোগ নেয়। প্রায় আট মাস সংস্কারের পর ২০১৩ সালের ১৫ আগস্ট মিলটি উৎপাদনে যায়। ওই বছর ২৫ নভেম্বর অর্থসংকটে মিলটি আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বহুবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মিলটি আর চালু হয়নি।

মিলের শ্রমিকরা জানান, গত পাঁচ বছরে প্রায় ৯০ কোটি টাকার হার্ডবোর্ড উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিসিআইসি। অবিক্রীত হার্ডবোর্ড ও মিলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ অযতœ ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে। বোর্ড তৈরির মেশিন, গোডাউন, ফিনিশিং কারখানা, চিপার মেশিন, বয়লারসহ মিলের প্রতিটি যন্ত্রপাতি অকেজো হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ বন্ধের সময় ২০৪ শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকজন ভিন্ন পেশা বেছে নিলেও অনেকেই এখন বেকার। শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ডিলাররাও। ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন অনেকেই।

মিলের একসময়ের কর্মী মফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এখন ভ্যান-রিকশা চালাই। এ কাজ করে সংসার চালানো ও সন্তানদের লেখাপড়া করানো খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।’

খুলনা হার্ডবোর্ড মিল বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক মোল্লা ফরিদ আহমেদ বলেন, এখন অযতœ আর অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এটা দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। খুলনা হার্ডবোর্ড মিলের প্রকল্প প্রধান প্রদীপ কুমার মজুমদার বলেন, মিলটি চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তবে মিলে সারের গোডাউন করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত