নিখোঁজ দোলা ও বৃষ্টিকে না পেলেও প্রতারণার শিকার পরিবার

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৯:২৪ পিএম

রাজধানীর চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন আজিমপুরের দুই বান্ধবী ফাতেমা তুজ জোহরা বৃষ্টি ও  রেহনুমা তাবাসসুম  দোলা। সোমবার পর্যন্ত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

তবে এর মধ্যে দুই বান্ধবী বৃষ্টি ও দোলাকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের ব্যবহৃত নম্বর থেকে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে প্রতারক।

বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও দোলার বাবা টাকা দেননি।

সোমবার দোলার বাবা দলিলুর রহমান দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘‘আমার মেয়ে যে নম্বর ব্যবহার করত, সেই নম্বর দিয়েই আমার ফোনে কল করেছিল একজন। ওই ফোন পেয়ে আমি ‘দোলা ফোন দিয়েছে দোলা ফোন করেছে’ বলে বাসার সবাইকে চিৎকার করে ডেকে এনেছিলাম। তারপর ফোন রিসিভ করে একজন পুরুষ কণ্ঠ পাই। তিনি বলেন, দোলা আমাদের কাছে আছে , ৫০ হাজার টাকা পাঠালে মেয়েকে পাবেন। এরপর আমি তাকে বলি, আমার মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই, তারপর টাকা পাঠাব। এ কথা সে শোনেনি। তাই টাকাও পাঠাইনি।’’

ব্যবসায়ী দুলাল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি মেয়েকে পাওয়ার জন্য নিজের কিডনি বিক্রি করতে রাজি আছি। কিন্তু ওই চক্রের ৫০ হাজার টাকার কথা শুনে আমার বিশ্বাস হয়নি। কারণ একজন মানুষের দাম তো এত অল্প টাকা হওয়ার কথা নয়। তারপরও মেয়েকে পাওয়ার আশায় এই তথ্য আগে কাউকে জানাইনি’।

তবে বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিন ওই টাকা দেওয়ার পরও মেয়েকে না পেয়ে আরও হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর বাধ্য হয়ে এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বৃষ্টির বাবা জসিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বৃষ্টিকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছে। টাকা নেওয়ার পরই ওই মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।

এ ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে নিখোঁজ দুই বান্ধবীর ব্যবহৃত নম্বরগুলো নকল করে প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি শিল্পকলা একাডেমিতে কবিতা আবৃত্তির অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন বৃষ্টি ও দোলা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৃষ্টির সর্বশেষ কথা হয় রাত ১০টা ০৪ মিনিটে। চকবাজারে আগুন লাগে ১০টা ৩৮ মিনিটে। এরপর থেকে বৃষ্টি ও দোলা নিখোঁজ। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ফোন বন্ধ পেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় নিখোঁজ দুজনের মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে জানা যায়, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলের পাশেই ছিল তাদের অবস্থান।

এ তথ্য জানার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ (ঢামেক) রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ করেও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত