সুনামগঞ্জে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর জয়ের বড় বাধা নিজ দলের নেতাকর্মী। জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে ৮টি উপজেলাতেই চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর ছড়াছড়ি। নেতাকর্মীদের অনেকেই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুল হুদা চপল। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল কালাম দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। চেয়ারম্যান পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলার সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি মণীষ কান্তি ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাশেদ বখত। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের নেতা। দলের একটি অংশ গোপনে মণীষ কান্তির পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নিজ দলের বিদ্রোহী সফর উদ্দিন। রফিকুলকে ঠেকাতে দলের একটি বড় অংশ চলে গেছে সফর উদ্দিনের সঙ্গে। ফলে অনেকটা ভালো অবস্থানে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি নেতা হারুনুর রশিদ। তাহিরপুর উপজেলায় নৌকার প্রার্থী করুণা সিন্ধুকে ঠেকাতে একাট্টা তার বিরোধী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
জামালগঞ্জ উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ইউসুফ। তাকে ঠেকাতে বিদ্রোহী শামীমের পক্ষ নিয়েছে দলের অনেক নেতাকর্মী। ধর্মপাশায় বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি। আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি স্থানীয় সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ঘনিষ্ঠজন। মুরাদকে ঠেকাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাংসদের ভাই রোকন। দিরাই উপজেলায় স্থানীয় সাংসদ ড. জয়া সেনগুপ্তা নিজের দুই অনুসারীকে নিয়ে পড়েছেন বিপাকে। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ রায়। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন যুবলীগের রঞ্জন রায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলতাব উদ্দিনও দলের একটি অংশের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করছেন।
দোয়ারাবাজারে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন আবদুর রহিম। তাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন আরেক আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ। ফরিদকে সমর্থন দিচ্ছেন দলের একটি অংশ। শাল্লা উপজেলায় দলীয় প্রার্থী আল আমিনের বিরুদ্ধে লড়ছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অবনী মোহন দাস। দলের একটি অংশ চলে গেছে মোহনের পক্ষে। ছাতক উপজেলায় দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন ফজলুর রহমান। দলীয়ভাবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী। দলের ভেতরে তার বড় ভোটব্যাংক রয়েছে। তবে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা না করার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।
