নারায়ণগঞ্জকে শুধু শুধু বদনাম করা হয় বলে উল্লেখ করে সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘আমিও চাই ত্বকী হত্যার রহস্য বের হোক’।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় মাসদাইরের বাংলা ভবন কমিউনিটি সেন্টারে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কর্মীদের নিয়ে এক আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান এ কথা বলেন। আগামী ২ মার্চ (শনিবার) আয়োজিত জনসভার প্রস্তুতি হিসেবে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়।
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য জায়গায় আইনশৃঙ্খলা অনেক বেশি খারাপ, নারায়ণগঞ্জের অবস্থা অনেক ভালো। বাইরের থেকে ঘটনা ঘটায়। সাত খুন হয়, ত্বকী হত্যা হয়। খুনের রহস্য বাইর করলেই তো হয়। বাইর করুক না। আমিতো চাই, রহস্য বাইর হওয়া উচিত। নারায়ণগঞ্জের মানুষ কিছু করে নাই। আর আমরা ভাইয়েরা ভাইয়েরা মারামারি কইরা মরি। বিএনপির কোন নিরপরাধ লোকের বিরুদ্ধে মামলা থাকুক সেটাও আমি চাই না।’
ছাত্রাবস্থায় যেভাবে রাজনীতি করেছেন সেভাবে আগামী তিন বছর রাজনীতি করতে চান জানিয়ে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন, ‘এটা আমাদের জেলা, আমাদের নারায়ণগঞ্জ। কেউ আইসা সাত খুন করে যাবে সে দায়িত্ব আমরা নেব না। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি চাই। কিন্তু ইয়াবা পকেটে দিয়ে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে এটা হতে দেব না। আমরা বুঝি সবকিছুই’।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘যে নেতা-কর্মী মূল্যায়ন করবে না তারে নারায়ণগঞ্জে রাজনীতিও করতে দেব না। আর ওই নেতা হইয়া লাভ নাই যার পেছনে কর্মী নাই। সবাইকে একসাথে নেতা বানানো যায় না। কিন্তু সবাই একসাথে কর্মী হওয়া যায়। কর্মী ছাড়া নেতার কোন দাম নাই’।
শনিবারের জনসভা প্রসঙ্গে শামীম ওসমান বলেন, ‘জনগণ কি চায় সেই ম্যাসেজটা আমি ওই জনসভায় দেব। আমরা আওয়ামী লীগের প্রতিটা কর্মী মাঠে নামতেছি। আমরা পুলিশের উপর নির্ভর করি না। আমরা কারও উপর ভরসা করে রাজনীতি করি না। আমরা নারায়ণগঞ্জের প্রেসক্লাব, নিউজ পেপারের মালিক, সাংবাদিক, বারের আইনজীবী, ব্যবসায়ীদের ডাকব, সবাই মিলে বসব। আলোচনা করব কীভাবে নারায়ণগঞ্জকে সুন্দর করা যাবে’।
ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
