দেশের অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত প্রকল্প বাতিল করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। তবে সারা দেশের অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি করে দেওয়ার জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে একনেক বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ১২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ১৫৪ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা খরচ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের বিষয়ে এম এ মান্নান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ছিল ফ্ল্যাট না দিয়ে নিজস্ব ভিটায় একই টাকা খরচ করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার। সে জন্য এখন নতুন করে ঘর নির্মাণ প্রকল্প নেওয়া হবে। যাদের ভিটা নেই, তাদের পার্শ্ববর্তী খাসজমিতে ঘর করে দেওয়া হবে। এখন থেকে যেসব সেতু বা অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, স্থানীয় কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা প-িত ব্যক্তির নামে সেগুলোর নামকরণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তা না হলে নদীর নামে নামকরণ করতে হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রকল্প ওভারলেপিং না করতে উচ্চক্ষমতার একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের বিজ্ঞানীদের ৫০ ভাগ ভাতা বাড়ানো হবে বলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করায় তাদের এই ভাতা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
একনেকে ‘মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল নিমিত্ত ভূমি অধিগ্রহণ’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এই জন্য ৮৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুতগতিতে বাড়ছে। বিদ্যুতের এই চাহিদা পূরণ, লোডশেডিং কমানো ও ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে তিন দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির জন্য ১২০ কিলোমিটার ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট উচ্চ ভোল্টেজের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য ‘বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি লাইন’ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ ১ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চলতি সময় থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। লাইনটি নির্মিত হলে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া হয়ে সহজে ভারত, নেপাল ও ভুটান দিয়ে বিদ্যুৎ আমদানি করা যাবে।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতু (লেবুখালী সেতু) নির্মাণ, এতে ব্যয় ১ হাজার ৪৪৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ফেনী-নোয়াখালী জাতীয় মহাসড়কের ২ লেন অংশে (মহীপাল থেকে চৌমুহনী পূর্ব বাজার পর্যন্ত)-৪ লেনে উন্নীতকরণ, এতে ব্যয় হবে ৭৪৭ কোটি টাকা। মোংলা বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি/সরঞ্জাম সংগ্রহ, এতে ব্যয় হবে ৪৩৫ কোটি টাকা। ঢাকা শহরে ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, এতে ব্যয় ৩৭৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জলমগ্নতা/জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিষ্কাশন উন্নয়ন, এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬২০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কুড়িগ্রামের চিলমারী ও উলিপুর উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরে ভাঙনরোধ, এতে ব্যয় ৩০২ কোটি টাকা। সোনাগাজী ও মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল সংযোগ সড়কে ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, এতে ব্যয় হবে ৬৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ, খরচ ২৬৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৬৪টি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খরচ ১ হাজার ৫৩৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং গোপালগঞ্জ এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের তৃতীয় শাখা কারখানা স্থাপন প্রকল্প। এটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৭৯৯ কোটি টাকা।
