মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪১ জন নির্বাচিত

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এ তালিকা অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় হল সংসদে ৪১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্রার্থী তালিকায় ছাত্রত্ব না থাকা ছাত্রলীগের দুজনকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে আজ সোমবার থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে।   গতকাল রবিবার বিকেলে ডাকসুর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক তথা জিএসসহ ২৫টি পদে ২২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। প্রাথমিক তালিকায় ২৩৭ জনের নাম থাকলেও ৮ জন  মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। হল সংসদে প্রাথমিক তালিকায় ৫৯৪ জনের নাম থাকলেও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন ৮৫ জন। মোট প্রার্থী ৫০৯ জন। এদিকে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোর করে মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রচার ১১ মার্চ অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত চলবে।

ডাকসুর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় ভিপি প্রার্থী ২১, জিএস পদে ১৪, এজিএস পদে ১৩, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক পদে ৯, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ১১, সাহিত্য সম্পাদক পদে ৮, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ১২, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ১১, ছাত্র পরিবহন বিষয়ক সম্পাদক পদে ১০, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ১৪ ও সদস্য পদে ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

চূড়ান্ত তালিকায় ভিপি প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, ছাত্রদলের প্যানেল থেকে মোস্তাফিজুর রহমান, প্রগতিশীল ছাত্রজোট সমর্থিত প্যানেল থেকে লিটন নন্দী, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরসহ হেভিওয়েট প্রার্থীরা। জিএস পদে আছেন ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে গোলাম রাব্বানী, ছাত্রদলের আনিসুর রহমান খন্দকার, প্রগতিশলী ছাত্রজোট থেকে উম্মে হাবিবা বেনজির, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের রাশেদ খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এ আর এম আসিফুর রহমানসহ ১৪ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের জন্য বিধিবহির্ভূতভাবে দুজনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রত্ব না থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রার্থিতা বহাল রাখায় বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগে যদি কোনো ছাত্রের ফলাফল প্রকাশ হয়, তাহলে তিনি ডাকসু বা হল সংসদে নির্বাচন করতে পারবেন না। কিন্তু জহুরুল হক হল সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী সাইফুল্লাহ আব্বাসী ও এজিএস প্রার্থী সুরুপ মিয়ার ক্ষেত্রে এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেছেন সাইফুল্লাহ আব্বাসী ও সুরুপ মিয়া। সাইফুল্লাহ ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আর সুরুপ মিয়া ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। এর মধ্যে সাইফুল্লাহ এক বছর শিক্ষা বিরতি দিয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হন। গত ২৮ জানুয়ারি তাদের মাস্টার্সের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, মাস্টার্সে সাইফুল্লাহ আব্বাসী ৩ দশমিক ১৬ এবং সুরুপ মিয়া ৩ দশমিক ১৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল্লাহ আব্বাসী বলেন, ‘আমার নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আছে। সেজন্যই আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।’ এটাকে প্রশাসনের ভুল মনে করছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’ এ বিষয়ে জানতে সুরুপ মিয়ার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি রিসিভ করে কেটে দেন। পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও সেগুলো রিসিভ হয়নি।

জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘যার নাম চূড়ান্ত তালিকায় আছে, সে প্রার্থী হতে পারবে।’ ছাত্রত্ব না থাকলে সে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যার হল কার্ডের মেয়াদ আছে, সে ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবে।’ আজ থেকে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারের বিষয়ে ভিপি প্রার্থী নুরুল হক নুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা আজ সকাল ৮টা থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামব।’

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত