ভাইকে খুন করে ছদ্মবেশে ভাবির সঙ্গে সংসার: ৪ বছর পর গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৯, ০৮:৪৬ পিএম

বড় ভাই রুবেলকে খুন করে ভাবিকে নিয়ে ছদ্মবেশে বসবাস করছিলেন ছোট ভাই টিপু সুলতান (২৪)।

দীর্ঘ চার বছর ছদ্মবেশে অবস্থান করার পর অবশেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ- সিআইডির হাতে ধরা পড়েছে টিপু।

সোমবার টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সিআইডির পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে,  ২০১৬ সালের ১৮ মে  কেরানীগঞ্জের ভাড়া বাসায় খুন হন পেশায় বাসচালক রুবেল। এরপর থেকেই রুবেলের স্ত্রী লিমা ও ছোট ভাই টিপু সুলতান পলাতক ছিলেন। এ ঘটনার দুই দিন পর রুবেলের বাবা হায়দার আলী হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গত ২ মার্চ সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকার থানাবাজার গ্রামের অলির বাড়ি থেকে টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারের পর সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টিপু জানায়, বড় ভাই খুন হওয়ার পর ভাবি লিমা আক্তার কাকলীকে নিয়ে পালিয়ে যান। তারপর বিয়ে করে একই সঙ্গে বসবাস করছিলেন। তার আসল নাম গোপন রেখে ফাহিম ছদ্মনামে আত্মগোপন করেছিলেন।  

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রো দক্ষিণ সিআইডি ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইকবাল হোসেন জানান, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে টিপুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তারই বড় ভাই রুবেল হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এএসপি ইকবাল বলেন,  মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার করকিরচর গ্রামের বাসিন্দা রুবেল ও টিপু একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের বাবা দুজন। রুবেলের বাবা মারা যাওয়ার তার মা হায়দার আলীকে বিয়ে করেন। এই ঘরেই টিপুর জন্ম হয়। রুবেল ও তার স্ত্রী রিমার সঙ্গে কেরানীগঞ্জের একই বাসায় থাকতেন টিপু। সেখানে থাকা অবস্থায় টিপুর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন ভাবি। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলে টিপু ধারাল অস্ত্র দিয়ে ভাইকে হত্যা করে ভাবিকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার হওয়া টিপু সিআইডির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কেরানীগঞ্জ থেকে পালিয়ে তারা ছদ্মনামে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় বসবাস করছিলেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিতে তারা তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর অন্য ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধন করে ব্যবহার করছিল। গ্রেপ্তার এড়াতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করত না।

সিআইডির এএসপি ইকবাল হোসেন বলেন, বিশেষ প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত