জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ব্যাগ নিয়ে ঢোকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এই নিষেধাজ্ঞা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কাউন্টারে ব্যাগ জমা দিয়ে গ্রন্থাগারের ভেতরে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় ইস্যুকৃত বই নির্দিষ্ট কাউন্টারে চেক করানোর নির্দেশ দেয়। বিজ্ঞপ্তির প্রতিক্রিয়ায় গতকাল বিকেলে এবং সোমবার সকালে গ্রন্থাগারের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে গ্রন্থাগার ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীরা।
গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষের এই নিষেধাজ্ঞা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগারের বাইরে অবস্থান নিতে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ান।
গ্রন্থাগার সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী গ্রন্থাগার ব্যবহার করেন। যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই সাবেক শিক্ষার্থী এবং চাকরির পড়া পড়তে গ্রন্থাগারে যান। একাডেমিক প্রয়োজনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০০ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী যাতায়াত করেন।
সূত্র জানায়, মূলত একাডেমিক প্রয়োজনে গ্রন্থাগারের একটা অংশ বর্তমান শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করেন। নিচতলার বাকি অংশ এবং দোতলা ও তিনতলা ব্যবহার করেন চাকরিপ্রার্থী শিক্ষার্থীরা। যাদের অধিকাংশরই ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে। গ্রন্থাগারের দোতলায় পড়ার ডেস্কের পাশাপাশি শেলফে বিপুল পরিমাণ জার্নাল, ডিজার্টেশন, থিসিস পেপার সংরক্ষিত ছিল বলে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ দাবি করেন।
গ্রন্থাগার সূত্র জানায়, ৩-৪ বছর আগ থেকে গ্রন্থাগারে চেকিং ছাড়া ব্যাগ নিয়ে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এর আগে কড়া চেকিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হতো শিক্ষার্থীদের। গত মাসের শেষের দিকে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে গ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেওয়ার কারণে দোতলার বইগুলোর একটা বিশাল অংশ ইতিমধ্যে খোয়া গেছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাগ নিয়ে ঢোকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আইডি কার্ড দেখা হয় না বলে বহিরাগতরাও গ্রন্থাগার ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানতে চাইলে গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক হানিফ আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা ব্যাগ নিয়ে না ঢোকার ব্যাপারে রাজি হয়েছে। আমরা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শৃঙ্খলাগুলোও ফেরানোর চেষ্টা করব।
