চীনের পর এবার ভারত ও তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পণ্য রপ্তানিতে ভারত ও তুরস্ককে দেওয়া অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। গত সোমবার ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে ভারতের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের যৌক্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়নি বলে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। অন্যদিকে তুরস্কের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের কারণ হিসেবে বলা হয়, তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে যথেষ্ট উন্নত থাকায় এখন আর এই সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না।
জিএসপি প্রোগ্রামের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে যৌক্তিক এবং ন্যায়সংগত বাজার নিশ্চিত করলে ওই দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নির্দিষ্ট পণ্য শুল্কমুক্তভাবেই প্রবেশ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিস্তৃত পরিসরে বাণিজ্য বাধা সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ১৯৭৫ সালে জিএসপি সুবিধা পাওয়ার পর তুরস্ক ব্যাপক উন্নতি দেখিয়েছে। ফলে এই প্রোগ্রামের আওতায় আর এখন দেশটি পড়ছে না।’
কংগ্রেসকে লেখা চিঠিতে ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত সরকার ও জাতিসংঘের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বুঝতে পেরেছি ভারত তাদের দেশের বাজারে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এমন সুবিধা দেবে না। ভারত একটি উচ্চশুল্কের দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের মোটরসাইকেলের ওপর তারা শতভাগ শুল্ক চাপিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের রপ্তানি পণ্যে ওয়াশিংটন কোনো শুল্ক আরোপ করে না। ভারতীয় পণ্যের ওপর ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করা উচিত।’ এর আগে গত শনিবার বাণিজ্য শুল্ক নিয়ে ভারতের কঠোর সমালোচনা করেন ট্রাম্প। এ সময় তিনি কনজারভেটিভ পার্টির পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে ভারতকে ‘উচ্চশুল্কের দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। হুমকি দেন দিল্লির ওপর ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপের।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ভারতের ৫৬০ কোটি ডলারের সামগ্রী শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পায়। পুরো দুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি কর্মসূচির সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী দেশগুলোর একটি ভারত। এই সুবিধা প্রত্যাহার ভারতের পক্ষে এ মুহূর্তে বেশ বড় ধাক্কা। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতের বিরুদ্ধে নেওয়া তার পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এটাই বৃহৎ। তবে ভারত এখনো পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্কারোপের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ভারতের বাণিজ্যসচিব অনুপ ওয়াধাওয়ান সাংবাদিকদের বলেন, জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করায় ভারতের ওপর এর প্রভাব সামান্যই পড়বে। দুই দেশ যা কিছু করার আলোচনার ভিত্তিতেই করবে। নয়াদিল্লি আশা করে এই সুবিধা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের সূচনা হবে না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনকে জিএসপি সুবিধা দিয়ে থাকে, দেশটির অর্থনৈতিক চূড়ান্ত অবস্থার পরও তাহলে ভারতের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ নেওয়া ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়। অন্যদিকে বিকল্প অর্থনীতি মডেলের বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের কাছ থকে তেল কেনার কারণে ট্রাম্প অনেক দিন ধরেই ভারতের ওপর নাখোশ। সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনাময় পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভারতকে চাপে রাখতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
