সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় নিরপরাধ জাহালমের তিন বছর কারাবাসের বিষয়ে ফের উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেছে, তদন্তে জাহালম নির্দোষ জেনেও তার জামিনের ব্যবস্থা না করার দায় দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নিতে হবে। গতকাল বুধবার জাহালমের বিষয়ে দুদকের প্রতিবেদন নিয়ে শুনানির সময় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।
শুনানি শেষে যেসব মামলার ভিত্তিতে নিরপরাধ পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে সেসব মামলার সব নথিপত্র আগামী ১০ এপ্রিল দাখিল করতে বলেছে আদালত। ওই দিনই পরবর্তী শুনানি হবে বলে আদালত আদেশ দেয়। আদালতে দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ও ভুক্তভোগী জাহালমের পক্ষে আইনজীবী অমিত দাসগুপ্ত শুনানিতে ছিলেন। শুনানিকালে দুদক আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে আদালত বলে, ‘দুদক সম্পর্কে মানুষের ধারণা খারাপ হোক তা কেউ চায় না। আমরাও চাই না। দুদককে আরও পরিচ্ছন্ন হতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ শুনানির একপর্যায়ে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আদালত বলে, ‘যে বিড়াল ইঁদুর ধরতে পারে না সেই বিড়াল রাখার দরকার নেই।’
খুরশিদ আলম খান আদালতকে বলেন, জাহালম যে নির্দোষ তা দুদকের তদন্তেই উঠে এসেছে। তাই দুদক সঠিক পথেই আছে। জাহালমের বিনা অপরাধে কারাভোগের দায় দুদকের নেওয়া উচিত বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনর সমালোচনা করে দুদক আইনজীবী বলেন, ‘এ ঘটনায় দায় কার, এটা তো এখনই বলা যাচ্ছে না। এটা বিচারাধীন বিষয়। এখন প্রসিডিংয়ের বাইরে যাতে কিছু লেখা না হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দিন।’ আদালত এ বিষয়ে একমত হলেও কোনো নির্দেশনা দেয়নি।
দুদক আইনজীবী তখন আদালতকে জানান, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জাহালমের বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। আদালত তখন বলে, ‘আপনারা সে সব তথ্য কী যাচাই-বাছাই করবেন না? একজন সুপারিশ করবে আর আপনারা তা যাচাই-বাছাই করবেন না তাতো হতে পারে না।’
আদালত আরও বলে, ‘আপনারা প্রতিবেদনে বলছেন, জাহালম ১৮ ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছে। কিন্তু এখন দুটি ব্যাংককে মামলায় পক্ষভুক্ত করতে চাচ্ছেন কেন? সব ব্যাংকগুলোকে পক্ষভুক্ত করতে হবে। সবাইকে এর জবাবদিহি করতে হবে। যেখানে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়ছে, সেখানে সিন্ডিকেট করে সব নিয়ে যাচ্ছে, এটা কারা করছে তা দেখা দরকার।’
আদালত দুদক আইনজীবীর উদ্দেশে বলে, ‘ব্র্যাক ব্যাংকের একজনকে সাক্ষী বানালেন, তাকে আসামি বানালেন না কেন? যাকে আসামি করার কথা তাকে সাক্ষী বানালেন কেন? আপনারা ‘পিক অ্যান্ড চুজ’ করছেন।’
আদালত বলে, ‘তদন্তের পর যখন বুঝতে পারলেন যে তিনি (জাহালম) সালেক নন, তখনই কমিশনের উচিত ছিল জাহালমের জামিনের ব্যবস্থা করা। তিনি বারবার বলেছেন তিনি জাহালম, সালেক নন। কিন্তু তার কথা কেউ শুনেনি। এটা জানার পরও কেন তার জামিনের ব্যবস্থা করলেন না। এর দায় আপনাদের (দুদক) নিতে হবে।’
একপর্যায়ে মামলা সংক্রান্ত সকল নথিপত্র দাখিলের জন্য সময় চান দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। আদালত নথি তলব করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ এপ্রিল দিন ঠিক করে।
