রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আর পথ চেয়ে থাকবে না দোলার বাবা-মা, ৫ জনের লাশ শনাক্ত

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০১৯, ০৩:১৫ এএম

পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা যাওয়া আরও পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন এ তথ্য জানান।

এ নিয়ে ওই ঘটনায় নিহত মোট ১৬টি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে সংস্থাটি। তবে আরও দুজনের মরদেহ এখনো মর্গে রয়েছে। যাদের সঙ্গে কারও ডিএনএ’র মিল পাওয়া যায়নি। ওই দুটি লাশের বিপরীতে নিখোঁজ দাবিদার আছেন চারজন।

গতকাল শনাক্ত হওয়া লাশের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ও আবৃত্তিশিল্পী রেহনুমা তাবাসসুম দোলা (২২), রিকশাচালক গোলাম মোস্তফা মিয়া (৩৮), প্লাস্টিকের কাঁচামাল ব্যবসায়ী ফয়সাল সারোয়ার (৫৩), প্যাকেজিং ব্যবসায়ী হাজি ইসমাইল হোসেন (৬১) ও জাফর আহমেদ (৩৪)।

সংবাদ সম্মেলনে সিআইডি প্রধান হিমায়েত হোসেন বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি মরদেহ উদ্ধারের পর সংখ্যা বলা হয়েছিল ৬৭টি। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি একটি পুড়ে যাওয়া হাত উদ্ধার করা হয়। সেটি হিসাবে নিয়ে মরদেহের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৮। তখন শনাক্ত শেষে মর্গ থেকে ৪৮ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অবশিষ্ট থাকে ২০টি মরদেহ। এই ২০টি মরদেহ শনাক্তের জন্য মোট ৫২ জন দাবিদারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।’ সিআইডিপ্রধান আরও বলেন, ‘মরদেহের সংখ্যা ৬৮টি হলেও দুটি মরদেহের ব্যাগ থেকে নেওয়া স্যাম্পল অন্য দুটি ব্যাগের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় মরদেহের সংখ্যা কমে ৬৬টিতে দাঁড়ায়। এদের মধ্যে গত ৫ মার্চ ১১ জনের মরদেহ শনাক্ত হয়। পরিচয় শনাক্ত হয়নি দুটি লাশের। এর বিপরীতে নিখোঁজ আছেন আত তাহী, রাজু, শাহাবুদ্দিন ও ফারুক হোসেন নামে চারজন। তিনটি পরিবারের ডিএনএ নমুনা আমাদের কাছে আছে, তবে ওই দুই মরদেহের সঙ্গে এই চার পরিবারের কারও ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়া যায়নি। তাই এগুলো মর্গে থাকবে। কেউ মরদেহগুলোর দাবি জানালে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে মিলিয়ে দেখা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে সিআইডির ফরেনসিক বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ রেজাউল হায়দার, বিশেষ পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) রুমানা আক্তার, ডিএনএ অ্যানালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শারমিন জাহান উপস্থিত ছিলেন।

 

লাশ হস্তান্তর

গতকাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে দোলার লাশ গ্রহণ করেন তার বাবা দলিলুর রহমান। এছাড়া গোলাম মোস্তফার লাশ তার স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম, ফয়সালের লাশ তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং ইসমাইলের লাশ গ্রহণ করেন তার ছেলে সোহরাব হোসেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাশ দাফনের জন্য স্বজনদের ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চুড়িহাট্টায় লাগা আগুনে সরকারি হিসাবে ৬৭ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান চারজন। ডিএনএ পরীক্ষার পর শনাক্ত শেষে সিআইডির হিসাব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৭০ জন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত