বাবা নেই, মধ্যবিত্ত পরিবারে ছয় ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিতীয় সারোয়ার। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে সে ভর্তি হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তিন বছর আগে তার শরীরে কিডনি জনিত (সিকেডি) রোগ ধরা পড়ে। বাবা না থাকায় সংসারের ব্যয় বহন করার মতো যেখানে সামর্থ্য নেই। সেখানে নিয়মিত তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা প্রায় অসম্ভব ছিল। অর্থাভাবে মাঝখানে দুই বছর সে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া থেকে বিরত থাকে।
বর্তমানে সারোয়ারের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ৬.৭ পরিমাণ বেড়ে গিয়ে তার কিডনি কাজ করছে না। এমতাবস্থায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি প্রতিস্থাপন। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং প্রচুর অর্থ যা তার পরিবার বহন করতে পারবে না। চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সারোয়ারের চিকিৎসায় আপাতত ১২ লাখ টাকা লাগবে।
যদি ডায়ালাইসিস করানো হয় তাহলে তাকে বেঁচে থাকা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে, ফিরতে পারবে না স্বাভাবিক জীবনে। এই জন্য কিডনি প্রতিস্থাপন খুব জরুরি হয়ে গেছে। কেবল কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
বন্ধুরা যেখানে নিয়মিত ক্লাস করছে সারোয়ার সেখানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রামেক) ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ১৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন।
ছোটবেলা থেকেই শরীরের নানা প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে সারোয়ার এগিয়ে চলেছে। সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষে (শিক্ষাবর্ষ ২০১৫-১৬) পড়াশোনা করছে। তার বাড়ি নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলায়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
তার এই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে দেশের দয়াশীল এবং বিত্তবানদের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার এবং বন্ধুরা। সারোয়ারকে সাহায্য পাঠানো ঠিকানা-০১৯৩০৯১৯২৬৭ (বিকাশ)।
