কম্পিউটার যখন প্রথম আসে, তখন মানুষের ভয় ছিল তাদের চাকরি থাকবে না। কিন্তু এমন কিছু হয়নি। তাই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব হলে কিছু মানুষ চাকরি হারালেও অনেকেরই চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ট্রান্সফরমেটিভ টেকনোলজি ফর গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (বিডা)।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উচ্চতর প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের ভয় পাওয়া চলবে না। ভবিষ্যতের উৎপাদন, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে রোবটিকস প্রযুক্তির ব্যবহারের সঙ্গে আমাদের মানিয়ে নিতে প্রস্তুত হতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দক্ষতা।’
তিনি আরও বলেন, “দক্ষতার সঙ্গে ভবিষ্যতের শিল্প, জনবল, আইন, নীতি পরিবর্তনের সঙ্গে আমরা যাতে মানিয়ে নিতে পারি, সে জন্য সরকার জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) গঠন করেছে। গত বছর ‘দক্ষতা তহবিল’ গঠন করা হয়েছে।”
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে মানবজাতির সর্বোচ্চ উন্নয়ন হয়েছে এবং হবে। এখন পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত শ্রেণির, যেখানে উন্নয়নের উচ্চাকাক্সক্ষা রয়েছে। এই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে আমাদেরও।’
জীবনধারণ, কাজ বা পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ওপর প্রযুক্তির প্রভাব অনেক বেশি এমন মন্তব্য করে বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুটোই আছে। বাংলাদেশের প্রধান শক্তি জনগণ। জনশক্তির মাধ্যমে এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের রূপান্তর ঘটাতে হবে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্র্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, ‘যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ইচ্ছাটাই যথেষ্ট। যেমন আমরা দেখিয়ে দিচ্ছি মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে। ব্লকচেইন, অটোমেশন, বিগ ডাটা, আর্টিফিশিয়াল ইনটেন্স, রোবটিক ইনোভেশনসহ কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। একসময় এগুলো সহজ হয়ে যাবে।’
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বোস্টন ইউনিভার্সিটির ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের (আইএসডিআই) নির্বাহী পরিচালক ইকবাল ইউসুফ, প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আবদুল হান্নান চৌধুরী, মোহাম্মাদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রুবানা হক, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবু আবদুল্লাহ প্রমুখ।
