ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে হাইকোর্টের অসন্তোষ

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৯, ০৪:৪৫ এএম

ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের আগের আদেশ যথাযথভবে প্রতিপালিত না হওয়ায় গতকাল বুধবার হতাশাও প্রকাশ করেছে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এ বিষয়ে জানাতে পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক

মো. জিয়াউল হককে আগামী ১০ এপ্রিল তলব এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে সংগঠনের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরেসদ গত ২৭ জানুয়ারি একটি রিট আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গত ২৮ জানুয়ারি অন্তর্বর্তীকালীন তিন দফা নির্দেশনা দেয়।

 এর মধ্যে ছিল রাজধানীর যেসব এলাকায় উন্নয়ন ও সংস্কারমূলক কাজ চলছে সেখানে দিনে দুবার পানি ছিটানো, নির্মাণাধীন কাজের জায়গা ঢেকে রাখা এবং এসব বিষয় বাস্তবায়নের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সপ্তাহে দুদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয় হাইকোর্টের আদেশে। এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্ধারিত দিন ছিল গতকাল। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে আদালত বলে, ‘বায়ুদূষণ রোধে নেওয়া পদক্ষেপ আমাদের হতাশ করেছে। পরিবেশ রক্ষায় কোনো কাজ হচ্ছে না।’ আদালত আরও বলে, ‘যেসব এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ চলছে, সেসব এলাকায় প্রচুর ধুলোবালি পরিবেশকে দূষিত করছে। আমাদের মেট্রোরেল যেমন দরকার তেমনি বায়ুদূষণ রোধ করাও জরুরি। আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে হলে বায়ুদূষণ বন্ধ করতেই হবে।’

রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘এর আগে ঢাকার ধুলাদূষণ রোধে হাইকোর্ট যে নির্দেশনা দিয়েছিল তা পরিবেশ অধিদপ্তর ও দুই সিটি করপোরেশন যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আদালত। আদালত সিটি করপোরেশনকে আবারও প্রতিবেদন দিতে বলেছেন।’

তিনি জানান, গত ৬ মার্চ বায়ুদূষণ নিয়ে একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, ঢাকা শহর বায়ুদূষণের দিক থেকে বিশ্বে দ্বিতীয়। ওই প্রতিবেদনে পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেছেন যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই প্রতিবেদনটি সঠিক নয়। তার এই বক্তব্য এবং বায়ুদুষণ রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এর ব্যাখ্যা দিতে তাকে তলব করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত