আখাউড়া-সিলেট ডুয়েলগেজ রেললাইন ১ কিলোমিটার নির্মাণ ব্যয় ৬০ কোটি টাকা!

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০৩:০২ এএম

প্রতি কিলোমিটারে ৬০ কোটি টাকা ব্যয় ধরে আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত মিটারগেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উঠছে। এই ব্যয় সম্প্রতি অনুমোদন দেওয়া ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের অন্যান্য প্রকল্পের প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয়ের চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত প্রায় ৫৩ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর করতে ব্যয় হচ্ছে প্রতি কিলোমিটারে ১০ কোটি টাকা। পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ১৫ কোটি টাকার মতো।

আর আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ২২৫ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন বিদ্যমান আছে। এই রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর করে ২৩৯ দশমিক ১৪ কিলোমিটারে উন্নীত করতে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭৬ দশমিক ২৪ কিলোমিটার মূল রেলপথ ও ৬২ দশমিক ৯০ কিলোমিটার লুপ লাইন রয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। ব্যয়ের ১০ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা ঋণ দিতে আগ্রহী চীন।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের জুন নাগাদ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা ধরে ২০১৫ সালে চীনের রেলওয়ে ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। এর আগে প্রকল্প প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হলে, তখন মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা ফেরত দেয় কমিশন। প্রকল্প ব্যয় বাস্তবসম্মত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পরামর্শ দেওয়া হয় তখন। কিন্তু ব্যয়ে কোনোরকম কাটছাঁট না করেই একনেকে অনুমোদনের জন্য উঠছে এটি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথের ওপর গুরুত্বারোপ করার পর মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি অনুমোদন করাতে তৎপর হয়েছে। এর আগে উচ্চ ব্যয় ধরার কারণে প্রকল্প প্রস্তাবটি অনেক দিন ধরেই আটকে ছিল। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অনেক প্রকল্প অনুমোদন পেলেও অস্বাভাবিক ব্যয়ের এই প্রকল্প অনুমোদন পায়নি।

পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সামান্য বিশ্লেষণ করলেই এ প্রকল্পের অস্বাভাবিক ব্যয় ধরার বিষয়টি বুঝতে কষ্ট হবে না। রেলপথ নির্মাণে মূল ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে দর সমন্বয় যুক্ত হবে ২৭ শতাংশ। আর অনিশ্চিত ব্যয় রয়েছে আরও দুই শতাংশ; রয়েছে অন্যান্য খাতের ব্যয়ও। রেললাইন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ, কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়বে প্রায় ৬০ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভারতের ঋণে কুলাউড়া থেকে শাহবাজপুর পর্যন্ত ৫২ দশমিক ৫৪ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে প্রতি কিলোমিটার ব্যয় পড়ছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত ৬৬ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ১৫ কোটি ১৪ লাখ টাকা। আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত বিদ্যমান ৯২ কিলোমিটার রেলপথ ডুয়েলগেজে রূপান্তর ও নতুন ৯২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় পড়ছে ১৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা।

আখাউড়া থেকে সিলেট পর্যন্ত ডুয়েলগেজ নির্মাণ প্রকল্পে অন্য প্রকল্পগুলোর চেয়ে চার থেকে পাঁচগুণ বেশি ব্যয় ধরার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী একনেকে এই প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে বলে জানি। বিস্তারিত পেপার আমার কাছে আসেনি। না জেনে কোনো কিছু বলা সম্ভব নয়।’

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিটারগেজ রেললাইনকে রেখে কাজ করা সম্ভব নয়। সবকিছু ভেঙে ফেলে নতুন করে ডুয়েলগেজ করতে হবে। কারণ প্রস্তাবিত ডুয়েলগেজের নকশা আলাদা। প্রস্তাবিত ডুয়েল রেলপথটি চওড়া হবে।’

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তারা জানান, চীনা ঋণে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সে দেশের কোম্পানির মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই কাজ দিতে হয়। প্রকল্পের নকশা ও বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরিতেও তাদের হাত থাকে। সেক্ষেত্রে পণ্যের বা মজুরির বেশি মূল্য ধরা হলেও তা সংশোধনের সুযোগ নেই।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞ পরামর্শকের উচ্চ সম্মানী ধরা হয়েছে। পরামর্শকের সংখ্যা ও ব্যয় নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। এর বাইরে, জমি অধিগ্রহণে বাজার মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্প শুরুর আগেই বিলম্ব ব্যয় খাতে বরাদ্দ রাখাও একেবারেই অযৌক্তিক।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান মো. এনায়েত হোসেন বলেন, ‘এতে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয় রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গেলে ব্যয় এ রকমই হবে। তা ছাড়া সিলেট রেল স্টেশনটি বদলে যাবে। পাশাপাশি অন্য স্টেশনগুলোকেও আধুনিকায়ন করা হবে। সরকারিভাবে চীনা অর্থায়নের প্রকল্প ব্যয় একটু বেশিই হয়।’

এ হত্যাকাণ্ডে ১২ জঙ্গির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়। এর মধ্যে মুকুল ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকলেও জঙ্গি সেলিম, হাসান, আলী ওরফে খলিল, আনিক, অন্তুর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারেনি বলে আদালতকে জানিয়েছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত