অপরাধীর ছবিসংবলিত বোর্ড নেই সিএমপির কোনো থানায়

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০৩:১২ এএম

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোনো থানায় অপরাধীদের ছবিসংবলিত বোর্ড নেই। পুলিশের দাবি, থানাগুলো ডিজিটাল হওয়ায় অপরাধীদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে অপরাধীর সংখ্যা কত তা বলতে চাননি কোনো থানার কর্মকর্তারা। যুক্তি হিসেবে নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার অজুহাত দিচ্ছেন তারা।

সম্প্রতি সিএমপি কমিশনার মো. মাহবুবর রহমান প্রতিটি থানায় প্রকাশ্য স্থানে মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের ছবিসংবলিত বোর্ড টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে থানায় আসা সাধারণ মানুষ তাদের দেখে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তাদের খোঁজ পেলে পুলিশকে জানায়। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

নগরীর কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ, সদরঘাট, চকবাজার, আকবরশাহ, কর্ণফুলী, বাকলিয়া, পাহাড়তলী থানা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কোনো তালিকা বা ছবি নেই। থানাগুলো ক্রাইম বোর্ডে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পরিবর্তে নিখোঁজ ব্যক্তি কিংবা অজ্ঞাত লাশের ছবি ঝুলছে। আবার কোথাও কোথাও মোটরসাইকেল ও মোবাইল চোরের ছবি আছে।

সদরঘাট থানার ওসি নেজামউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্রিমিনাল ডেটাবেইজ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। আমরা শীর্ষ অপরাধীদের নাম-ঠিকানা, ছবি ও মামলার সংখ্যা লিপিবদ্ধ রাখছি খাতায়। থানায় জায়গা কম। কর্মকর্তাদের বসতেই কষ্ট হয়। তাই আসামিদের ছবিসংবলিত বোর্ড লাগানোটা দুরূহ।’

সন্ত্রাসীদের নাম বা ছবি প্রকাশে যেমন সুবিধা আছে, তেমনি অসুবিধাও আছে বলে জানান ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ। তিনি বলেন, ‘থানায় অপরাধীদের ছবি থাকলে মানুষ সতর্ক থাকতে পারত। কিন্তু এতে কিছু সমস্যাও আছে। ছবি প্রকাশের পর অপরাধীরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেয়।’

আবার ছবি প্রকাশ করা নিয়ে হাইকোর্টের এক রুলের ব্যাপারে অস্পষ্টতা রয়েছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে। যদিও ২০১২ সালের দেওয়া রুলে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ব্যক্তিকে স্বীকারোক্তি প্রদানের জন্য গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা যাবে না। কারণ গ্রেপ্তার বা সন্দেহভাজন ব্যক্তি নির্দোষ প্রমাণিত হতে পারেন।

অভিযোগ আছে, নগরীর ১৬টি থানায় অপরাধী তালিকা হালনাগাদ হয় না দীর্ঘদিন। যদিও পুলিশের দাবি, প্রতিনিয়তই তালিকা আপডেট হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘অপরাধী তালিকা বলতে যা বোঝায় সে ধরনের কোনো তালিকা নেই পুলিশের কাছে। তবে সারা দেশে দায়ের লাখ লাখ মামলার ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৭৩ লাখ মানুষের পূর্ণাঙ্গ নথি লিপিবদ্ধ আছে সদর দপ্তরে। সে হিসেবে ছিঁচকে চোর থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সবাই আছে পুলিশের জালে। মূলত দুটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এসব তথ্য রাখা হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত