গলায় ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা, লাশ রেখে পালালেন স্বামী

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০১৯, ১০:৩২ পিএম

রাজধানীর নন্দি পারার রসুলবাগ এলাকায় নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে ময়না আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূ আত্ম হত্যা করেছে। তার লাশ স্বজনের বাসায় রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মনির হোসেন।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে মনিরের স্বজনরা ময়নাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মনির হোসেনের বড় মেয়ে মোহনা বলেন, ‘প্রায় সময়ই বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া হতো। রবিবার বিকেলেও মারধর করে মাকে। এর পর মা পাশের রুমে গিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। আশপাশের লোকজন দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামায়।’

ময়না আক্তা রকে হাসপাতালে নিয়ে আসা, মনির হোসেনের ভাবি লিপি বেগম বলেন, ‘আমরা থাকি খিলগাঁও সিপাহিবাগ ৪ তলা গলিতে। আগে মনিরও তার প্রথম স্ত্রী আমেনা এবং দুই মেয়ে মোহনা (৬) ও মায় শাকে (৩) নিয়ে এই বাসাতেই থাকতেন। ৬ মাস আগে ১ম স্ত্রী জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার কিছুদিন পর ময়নাকে বিয়ে করে মনির। তবে এই বিয়ে করার কারণে স্বজনদের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নন্দি পারা রসুলবাগ এলাকার একটি ৭ তলা বাসার ৩ তলায় থাকতে শুরু করে মনির। তাদের সঙ্গে দুই মেয়েও থাকত।

তিনি আরও জানান, রবিবার সন্ধ্যায় ২ মেয়ে সহ মনির একটি সিএনজি করে ময়নাকে অচেতন অবস্থায় খিলগাঁও সিপাহিবাগ আমাদের বাসায় নিয়ে আসেন। সে জানায়, ময়না অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওকে হাসপাতালে নিতে হবে। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আনার কথা বলে ওই বাসা থেকে বের হয়ে যায় মনির। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মনির আর ফিরে না আসলে আমরাই ময়নাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক ময়নাকে মৃত ঘোষণা করে। মনির ইস্টার্ন প্লাজায় শাড়ি দোকানদার।’

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘ময়নার শরীরে ছোট ছোট আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মর্গে রাখা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত