এবার খুন করে নিয়ে গেল স্কুলছাত্রের অটোভ্যানটি

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৯, ০৪:৫০ এএম

নড়াইল পৌরসভার বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনের (১৩) মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের দুদিন পর গত রবিবার সন্ধ্যায় নড়াইল পৌরসভার কাড়ারবিলের একটি ঘের থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সংসারের খরচ জোগাতে পড়াশোনার ফাঁকে সাব্বির ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালাত। নিহতের পরিবার ও পুলিশের ধারণা, সাব্বিরের ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত সাব্বির বিজয়পুর গ্রামে মায়ের সঙ্গে মামাবাড়িতে থাকত। এর আগেও তার একটি ভ্যান চেতনানাশক খাইয়ে ছিনতাই করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সাব্বিরের বাবার নাম শাহাদত সরদার। বাড়ি নড়াইলের কালিয়ার পেড়লী ইউনিয়নের খড়িয়া গ্রামে। বাবা একাধিক বিয়ে করায় সাব্বিরের মা আন্না বেগম দুই সন্তান সাব্বির ও সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে মামাবাড়ির পাশে ঘর তৈরি করে বসবাস করেন এবং কাজ করেন রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে।

প্রতিবেশী আবেজান বেগম জানান, সাব্বির তিনমাস ধরে পড়াশোনার পাশাপাশি ভ্যান চালাত। এক মাস আগে সাব্বিরকে যাত্রীবেশে ভাড়ায় যশোর নিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ভ্যানটি নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে অসহায় মা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ১৫-২০দিন আগে আরেকটি ভ্যান কিনে দেন। স্কুলের ক্লাস শেষে বিকালে ভ্যান চালাত সাব্বির।

সাব্বিরের মা আন্না বেগম বলেন, সাব্বির প্রতিদিন আমাকে রাজমিস্ত্রির কাজ শেষ হলে ভ্যানে করে বাড়িতে নিয়ে আসত। অন্য দিনের মতো ১৫ মার্চ বিকেলে সে ভ্যান চালাতে যায়। আমার কাজ শেষ হলেও আমাকে আনতে যায়নি। পরে আমি রাতে বাড়ি এসে বহু জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। রবিবার বিকেলে শুনতে পাই তার লাশ পাওয়া গেছে বিলের মধ্যে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের শাস্তির দাবি জানাই।

বিজয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখা রানী কুন্ডু বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি সাব্বির খেলাধুলাতেও ভালো ছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে স্কুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। আমরা সাব্বিরের হত্যাকারীদের শনাক্তসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

নড়াইল সদর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন জানান, এ ব্যাপারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত