বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর বাড়িতে হামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময় ছাত্রলীগ সভাপতির বাড়ি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মশিউর রহমান সজল ও তার সহযোগী ছাত্রলীগ কর্মী একরামুল হক শুভ। দ্রুত বিচার ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে।
দ্রুত বিচার আইনে মামলার বাদী হয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী ও অস্ত্র মামলার বাদী আদমদীঘি থানার সহকারী পরিদর্শক তহিদুল ইসলাম তৌহিদ। বুধবার দুপুরে আসামিদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
থানা-পুলিশ জানায়, আদমদীঘিতে উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলী। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক। নির্বাচনে তিনি অপর প্রার্থী মাহমুদুর রহমান পিন্টুর কাছে পরাজিত হন।
মঙ্গলবার রাতে বিজয়ী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা ছাত্রলীগের কয়েক নেতা ও কর্মী শহরের রেলগেট চত্বরে পরাজিত প্রার্থী আনছার আলীর ছেলে মারুফ হাসান রবিনকে উদ্দেশ্য করে উসকানিমূলক কথা বলে। এ নিয়ে দুই পক্ষে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান সজলের নেতৃত্বে একটি দল শহরের মাইক্রোস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা আনছার আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মুন্নি বেগমকে মারপিট ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
রাতেই এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ হলে আদমদীঘি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অভিযান চালায়। শহরের বাজার এলাকায় সদ্য নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান পিন্টুর ভাড়া বাসা থেকে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মশিউর রহমান সজল ও ছাত্রলীগ কর্মী একরামুল হক শুভকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যে রাতেই পৌর এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা সজলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
ছাত্রলীগ সভাপতি মশিউর রহমান সজলের চাচা আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক আবু জানান, উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী মাহমুদুর রহমান পিন্টু সম্পর্কে সজলের মামা। তিনি জয়ী হওয়ার কারণে ষড়যন্ত্র করে ওই মামলা সাজিয়েছে।
আদমদীঘি সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আলমগীর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। আসামিরা হামলার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যেই অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
