বহির্বাণিজ্যের ৭৪% করছে বেসরকারি ব্যাংক

আপডেট : ২১ মার্চ ২০১৯, ০২:৪৬ এএম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নের ৭৪ শতাংশই হচ্ছে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের মোটে ৭ শতাংশ সম্পন্ন হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। বাকি ১৯ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে।

গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট অফিসে ‘ট্রেড সার্ভিসেস অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক বার্ষিক পর্যালোচনা কর্মশালায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

২০১৮ সালে বহির্বাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০১১ সালের তুলনায় বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের অংশ বাড়লেও সাত বছরের ব্যবধানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমেছে। ২০১১ সালে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি হয়েছে ১৮ শতাংশ। কর্মশালার উদ্বোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম. মনিরুজ্জামান বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যম ২০১৮ প্রণীত নতুন নীতিমালা কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইনভিত্তিক রিপোর্টিং এবং ব্যাংক খাতে অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারির পাশাপাশি সঠিক তথ্য দিতে হবে।  বিআইবিএমের চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা বলেন, ব্যাংক খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বাড়বে। তাই ব্যাংক কর্মীদের প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে।

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে পণ্যমূল্য কম-বেশি দেখাতে না পারেন সে জন্য ব্যাংকারদের সতর্ক থাকতে হবে। পণ্যমূল্যের তথ্যভা-ার করলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি বলেন, ব্যাংকাররা সতর্ক থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। এজন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সমস্যা চিহ্নিত করে দূর করতে হবে। বড় ঋণ ও এলসি খোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। গ্রাহক সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে অর্থায়ন করা ঠিক নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারিকুজ্জামান বলেন, বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যেমন বেড়েছে, বাণিজ্যকেন্দ্রিক জটিলতা ও আর্থিক অপরাধও বাড়ছে। এটি এখন ব্যাংকিং খাতের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাংককর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।

এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কাস্টমস ভ্যালুশন অ্যান্ড ইন্টারনাল অডিট কমিশনারেটের কমিশনার ড. মঈনুল খান বলেন, রাজস্ব বোর্ড আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সব বিষয়ে সতর্ক। এখন কিছু ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপন আপডেট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত