পুঁজিবাজার থেকে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে (ফিক্সড প্রাইস) অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া কোম্পানির শেয়ারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে। গত পাঁচ মাসে অভিহিত মূল্যে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার পেতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আবেদন প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে। পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে আইপিওতে আসা অধিকাংশ কোম্পানিই অপরিচিত কিংবা স্বল্প পরিচিত। তারপরও এসব কোম্পানির শেয়ারের বাপক চাহিদা লক্ষ করা গেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইপিওর জন্য বরাদ্দ শেয়ারের ২০ থেকে ৭০ গুণ পর্যন্ত আবেদন জমা পড়ছে। এতদিন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছেই এসব শেয়ারের চাহিদা বেশি ছিল। এখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ঝোঁক তৈরি হচ্ছে। সর্বশেষ সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) প্রাতিষ্ঠানিক বা যোগ্য বিনিয়োগকারীদের রেকর্ড পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। যা এর আগে অন্য কোনো কোম্পানির আইপিওতে দেখা যায়নি। ধারাবাহিকভাবে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে আসা আইপিওতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে দেখা গেছে। সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালসের আইপিওতে আবেদনে চাঁদা গ্রহণের নির্ধারিত সময় ছিল গত ৭ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। ওইসময় কোম্পানিটির শেয়ার কেনার জন্য আইপিওতে ৯২৩টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা হয়েছে। যা অন্য যে কোনো কোম্পানির চেয়ে বেশি। আইপিওতে এ কোম্পানির দেড় কোটি শেয়ার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে ৯২৩টি প্রাতিষ্ঠানিক আবেদনকারী এ কোম্পানির ২৭ কোটি ৫ লাখ ৫০০ শেয়ারের আবেদন জানিয়েছে, যা বরাদ্দকৃত শেয়ারের ১৮ গুণ বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নিউ লাইন ক্লোথিংস। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত এ কোম্পানির শেয়ার পেতে ৮৯৯টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী আবেদন জমা দিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বরে জেনেক্স ইনফোসিসে ৮৪৩টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা হয়। এর আগে এসএস স্টিলে ৮২৮টি, কাট্টালি টেক্সটাইলে ৭৭১টি ও ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসে ৭৫৭টি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন করা হয়। গত ১৯ ডিসেম্বর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ৬৬৯তম সভায় এ কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। পুঁজিবাজারে ৩ কোটি শেয়ার ছেড়ে অভিহিত মূল্যে সিলকো ফার্মা ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। আইপিওর মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ দিয়ে কোম্পানিটি কারখানা ভবন নির্মাণ, যন্ত্রপাতি ক্রয়, ডেলিভারি ভ্যান ক্রয় ও আইপিও খরচ খাতে ব্যয় করবে।
